পিরোজপুরে তৈরি হয়নি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, আতঙ্কে ঘর ছাড়া বিএনপি কর্মীরা

সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরেও সংসদীয় পিরোজপুর ১ আসনে তৈরি হয়নি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। মঙ্গলবার দুপুরে ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী ছিলো। দুপুরে ৪ প্লাটুন পুলিশ শহরে অবস্থান নিয়ে সাধারণ জনতাকে শারিরিক হয়রানী ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে বলে জানা যায়। অভিযোগ আসে পাঞ্জাবী ও টুপি পরিহিত দেখলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতারের সংখ্যা ৫০ এর অধিক।

শহরে গ্রেফতার আতঙ্কে সামান্য লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীতে ধানের শিষের প্রার্থী শামীম সাঈদী শহরে অবস্থান করা সত্যেও তার কর্মীবাহিনীর কাছে যেতে পারেননি বলে জানা যায়।

এলাকাবাসী জানান যে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০ দলের সমর্থিত ধানের শীষের কোন পোস্টার, ব্যানার ও স্টিকার লাগাতে দেয়া হয়নি। কোথাও পোস্টার লাগালে তা সাথে সাথে ছিড়ে ফেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এমনকি পোস্টার লাগানোর স্থানের আশে পাশের বাড়িতে যেয়ে হয়রানী ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। রাত হলেই পরস্থিতি হচ্ছে আরো ভয়াবহ পুলিশের অভিযান চালিয়ে করা হয় গ্রেফতার। গ্রেফতার ও হুমকি আতঙ্কে কর্মীরা ঘর-বাড়ি ছেরে পালিয়ে যাচ্ছে। নাজিরপুরের বিএনপি নেতার বাড়ির সামনে কবর খুড়ে রেখে গেছে। নেছারাবাদ বিএনপি ও শিবিরের কর্মীদের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে কাফনের কাপড়। তফসিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত ২০ দলের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়।

ধানের শীষের এজেন্ট আমাদের জানান যে, গত রাতে শঙ্করপাশা ইউনিয়নের আশেপাশে বিজেবির ছত্রছায়ায় আওয়ামীলীগের কর্মী বাহিনী বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে ভোট চায় এবং ভোট না দেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসে। এছাড়াও রানীপুর এলাকায় ধানের শিষের মাইকিং নামলে পুলিশ সেই মাইক জব্দ করে আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাদের হাতে সোপর্দ করে। মাইকিংকারী ২ ছেলে জীবন বাচানোর জন্য পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এই ব্যাপারে সেনাবাহিনী ও বিজেবির সহায়তা চাইলে তারা উপরের নির্দেশ ছাড়া কিছু করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়।

তারা আরো বলেন, আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স আমাদের কোন পাওয়ার নেই আপনারা পুলিশের কাছে যান। যখন তাদের অবহিত করা হলো ঘটনায় পুলিশ জড়িত রয়েছে। তখন তারা তাদের নিরুপায় স্বীকার করে। এছাড়াও গতরাতে বিজেবির সহযোগীতায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের পাশে একটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীর মজুদ করা পোস্টার, ব্যানার, স্টিকার পুড়িয়ে ফেলে।

এ ব্যাপারে ধানের শীষের প্রার্থী শামীম সাঈদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নৌকার নিশ্চিত পরাজয় জেনেই আমার কর্মী-সমর্থকদের হামলা মামলা দিয়ে হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে প্রার্থীর প্রশ্ন, পুলিশ-প্রশাসন ধানের শিষকে কেন প্রতিপক্ষ ভাবছে? আমরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে চেয়েছিলাম। আমরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আশাহত হয়েছি। আমি পিরোজপুর শহরে উপস্থিত থাকার পরেও আওয়ামীলীগের শোডাউন ও পুলিশের সাধারণ জনতার উপরে গ্রেফতার আতঙ্কের কারনে আমার নেতাকর্মীর কাছে যেতে পারিনি। এর পূর্বেও বার বার আমি আমার নেতা কর্মীর কাছে যেতে চাইলেই আমাদের একত্র হতে দিচ্ছে না। এভাবে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায়?

সেনা মোতায়েনের পরেও সাধারণ জনতার উপর এমন হয়রানী ও গ্রেফতার আতঙ্ক সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিত হবার উপরে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।