‘আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কারও হাতে মোবাইল ফোন ছিল না’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কারও হাতে মোবাইল ফোন ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে মোবাইল ফোনের দাম ছিল এক লক্ষ টাকা, কল রেট ছিল দশ টাকা আর এখন আমরা সকলের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাদেশে নৌকার যে জোয়ার উঠেছে তাতে আবার নৌকার জয় হবে।নৌকার জয় হলে বাংলার মানুষ সেবা পাবে। নৌকার জয় মানে সেবা-উন্নতি। ধানের শীষের জয় মানে সন্ত্রাস, লুটপাট, দুর্নীতি, অগ্নি সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা এলাকায় হাসপাতাল করে দিয়েছি। বেশি করে হাসপাতাল করে দিয়েছি মানুষ যাতে বেশি সেবা পায়। বস্তিবাসীদের কথা আমরা চিন্তা করেছি। তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছি। সারা দেশে হাসপাতাল তৈরি করে দিয়েছি। মানুষ সেবা নিতে পারবে। তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন লোডশেডিং হতো। এখন আর হয় না। বিদ্যুৎ খাতকে বহুমুখী করে দিয়েছি।

জঙ্গি দমন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগ মোকাবেলা করেছে। জঙ্গি দমনে কঠিন ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক নির্মূল করতে হবে। আপনারা যারা বাবা-মা আছেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে। আপনার ছেলেমেয়ে যাতে খারাপ কোনো আড্ডায় না যায়।

তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নত ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বহুমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যাতে বিদেশে গিয়ে ছেলেমেয়েরা চাকরি করতে পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলে ডিজিটাল বাংলাদেশে পেয়েছেন। বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি। চাকরির বেতন বৃদ্ধি করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেলিভিশন কে দিয়েছে, আমি ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছি। যাতে মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এখন মানুষ সেখানে চাকরি করে। ব্যাংক বেসরকারি করেছি যাতে মানুষ এখন চাকরি করতে পারে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে পরিচয় করে দিয়ে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া ঢাকার অন্য আসনগুলো থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জন্য ভোট চান।

এর আগে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছে প্রধান অতিথির আসন নেন। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ জনসভায় দুপুরের পর থেকেই জড়ো হয়েছেন দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। নির্বাচনী আমেজে খণ্ড খণ্ড মিছিল মিলেছে সভাস্থলে।

নৌকার প্রতিকৃতি নিয়ে, নেচে গেয়ে ইয়ুথ ক্লাব মাঠে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। তাদের গায়ে লাল-সবুজের পোশাক বর্ণিল করে তুলেন জনসভাকে।