‘সরকার পরিচালনায় কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন’

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের বলরুমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয় মেয়াদের মতো সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষোণা করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ইশতেহার ঘোষণা শুরু করেন। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ গ্লোগান নিয়ে এই ইশতেহারে ২১ বিশেষ অঙ্গীকারকে প্রাধান্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, এক দশকে সরকার পরিচালনায় কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গত দশ বছরে দায়িত্ব পালন বা কাজ করতে গিয়ে আমার ও সহকর্মীদের কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। আমি দলের প্রধান হিসেবে সবার পক্ষ থেকে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ করছি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করব। জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, বাবা-মাকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধুমাত্র এদেশের জনগণের জন্য। এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে উন্নত জীবন পায় এবং যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই দুই মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যদি এ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তাহলে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হবে গ্লানিকর।

নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। আপনারা নৌকায় ভোট দিন। আমরা আপনাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব। এটা আমাদের জাতির কাছে ওয়াদা।

তিনি বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়, তাদের জীবন সমৃদ্ধশালী হয়, ক্ষুধা দারিদ্র থেকে বঞ্চনা থেকে তারা মুক্তি পায়।” তাদের জীবনটাকে উন্নত করা, এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র কামনা।

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে অনুষ্ঠানের মঞ্চে এসে শেখ হাসিনা প্রথমেই স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ নির্যাতিত নারী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানদের এবং পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদেরও তিনি স্মরণ করেন।