ধানের শীষের ২৯৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৬৫ জনের বিরুদ্ধে ২,২৮৭ মামলা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন ২৯৭ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন ২৭২। ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের দেওয়া হয়েছে বাকি ২৫টি। জানা গেছে এসব প্রার্থীর বেশির ভাগই হত্যা, বিস্ফোরক, সহিংসতাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামি।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা এসব প্রার্থীর হলফনামা থেকে জানা যায়, ২৯৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দুই হাজার ২৮৭টি। অর্থাৎ ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৫৫ শতাংশ প্রার্থীই মামলার আসামি।

সবচেয়ে বেশি ২৬৭টি মামলা রয়েছে ঢাকা-১২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের বিরুদ্ধে। নোয়াখালী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বরকতউল্লা বুলু ১০৬টি মামলা মাথায় নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবীউল্লাহ নবী ১২১ মামলার আসামি। ঢাকা-৪-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ, যাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৮০টি। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪২টি মামলা। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে রয়েছে ২৭টি মামলা।

ঢাকার বাইরে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে মামলার পাহাড়। ফেনী-১ আসনের প্রার্থী মুন্সী রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে ৫৭, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুকের বিরুদ্ধে ৪২, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে ৪৬, চট্টগ্রাম-৯ আসনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাতের বিরুদ্ধে ৪০ এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৯টি মামলা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ দীন মালিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ বছরে দেশে বিরোধী রাজনীতিকে মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। আরেকদিকে গুম-খুনসহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বেশ কঠিন।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘এ দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মহল নানা ধ্বংসাত্মক অপকর্ম করেছে। ২০১৪ সালে সহিংসতা, পেট্রলবোমা আর আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এসব মামলার পেছনে সরকারের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’