কক্সবাজারে নবীন ও প্রবীণ দুই প্রার্থীর ভোটযুদ্ধ, জনপ্রিয়তায় এগিয়ে বদির স্ত্রী শাহিন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে (টেকনাফ-উখিয়া) আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরী। কক্সবাজার-৪ আসনে শীর্ষ দুই রাজতৈকি দলে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে বদির স্ত্রী শাহিন আক্তার। তার প্রতিপক্ষে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপির প্রবীণ প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ আসনে ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে টানা দুই বার ক্ষমতায় আসা সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বদলে নৌকার মাঝি হচ্ছেন তারই সহধর্মীনী শাহীনা আক্তার চৌধুরী। মূলত উখিয়া-টেকনাফে এম পি বদির জনপ্রিয়তার বিকল্প না থাকায় বদির স্ত্রীকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। পরোক্ষভাবে এম পি বদির জনপ্রিয়তার কারণেই পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

নবীন প্রার্থী শাহিন আক্তার এর বিপরীতে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে বিএনপি থেকে দুইবার ক্ষমতায় আসা সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। এই নবীন এবং প্রবীণ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে এবারের নির্বাচনে।

স্থানীয় সচেতনমহল বলছেন জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে তারা একজন অন্যজনের চেয়ে কম নয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দুই জনের অবস্থাই অনেকটা সমান সমান। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। আব্দুর রহমান বদির সর্মথকদের ভোটে এগিয়ে থাকবেন তার স্ত্রী শাহিন আক্তার।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ভোটারদের ভাষ্যমতে শাহিন আক্তারের জনপ্রিয়তায় যোগ হবে উখিয়া-টেকনাফের আগের এমপি আব্দুর রহমান বদির জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে উখিয়া-টেকনাফ আসনে টানা দুই বার সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ড থাকা সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অবস্থানও ভালো। এ মুহূর্তে অনেকটা অর্ধেক অর্ধেক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। তবে আব্দুর রহমান বদির সর্মথকরা দাবি করছেন বরাবরের মতো শাহিন আক্তার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।

জেলার নির্বাচনি ইতিহাস থেকে জানা যায়, এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে উখিয়া-টেকনাফ আসনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর কাছে ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হন মোহাম্মদ আলী।

এরপর ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করায় হেরে যান বিএনপি প্রার্থী।

২০০১ সালের নির্বাচনে আবদুর রহমান বদি নৌকার মনোনয়ন চাইলেও তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর কাছে ৪৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয় আবদুর রহমান বদিকে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে ২৪ হাজার ভোটে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বদি। নির্বাচনে আবদুর রহমান বদি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬২৬ ভোট। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার ৩১০ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনের তিনটিতে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিল বিনা ভোটে। শুধুমাত্র উখিয়া-টেকনাফে আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী তাহা ইয়াহিয়াকে প্রায় ৯৯ হাজার ভোটে পরাজিত করেন আবদুর রহমান বদি। আবদুর রহমান বদি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ৮৪৯ ভোট।

নির্বাচনী মাঠে নিজের অবস্থা সর্ম্পকে জানতে চাইলে শাহিন আক্তার জানান, এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়। তাই তারা আবারো নৌকায় ভোট দেবে। তিনি প্রচারণায় গিয়ে দেখেছেন বেশিরভাগ মানুষই ধারাবাহিক সরকারকে পুনরায় রাখতে নৌকায় ভোট দেবে। এছাড়া বিপুল পরিমান মানুষের সাড়া পাচ্ছেন তিনি।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ আওয়ামী লীগকে আর ভোট দেবে না। গুম, খুন থেকে বাঁচতে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে। মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাই উখিয়া-টেকনাফের মানুষ আমাকে ভোট দেবে।’

প্রসঙ্গত, নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় এইবার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাননি টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকা আব্দুর রহমান বদি। তার পরিবর্তে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তার স্ত্রী শাহিন আক্তার।