জাবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘ছিনতাই চেষ্টার’ অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে ছিনতাই চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বরাবর এমন অভিযোগ করেন এক দর্শনার্থী।

জানা যায়, ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগত এক দর্শনার্থীর কাছে থেকে মোবাইল ও গাড়ি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযোগকারি দিতে না চাওয়ায় তাকে নিরাপত্তা কর্মকর্তার রুমে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন।

অভিযোগকারীর নাম শামীম রহমান। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে জাবিতে ঘুরতে আসলে তার সাথে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন।

ঘটনা জানতে চাইলে এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার বান্ধবী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেলপুরী খাচ্ছিলাম। এমন সময় একজন (সুদীপ্ত শাহীন) এসে আমার বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে ডাকতে থাকে। তখন আমি তার কাছে যাই। সে আমাকে জিজ্ঞেস করে- আমি ক্যাম্পাসের কিনা? আমি ক্যাম্পাসের না জানতে পারলে তিনি আমার কাছে মোবাইল ও মোটর সাইকেলের চাবি চান। আমি প্রথমে দিতে অস্বীকার করি। পরে বুঝতে পারি যে তিনি ক্যাম্পাসের কেউ। এরপর তিনি আমাকে পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনে নিয়ে যান এবং রুমের ভেতর আটকে বেতের লাঠি দিয়ে মারধর করেন।’

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘থেমে থেমে ৬ দফা আমাকে লাঠি দিয়ে হাতে, মুখে, পেটে আঘাত করেন এবং ঘুষি মারেন তিনি। এরপর মারধরের এক পর্যায়ে তিনি আমার পকেটে গাঁজা ও পিস্তলের গুলি ঢুকিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এখন সাংবাদিক আর পুলিশদেরকে ডেকে বলবো- তুই জাবিতে গাঁজা আর পিস্তলের গুলি সাপ্লাই দিস। এখন তোর জীবন ধ্বংস করে দিবো।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অবশেষে তার অফিসের ল্যান্ডলাইনে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়া মাত্রই কল কেটে দেন এবং রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলতে বলেন।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি, নিরাপত্তা কর্র্মকর্তা এভাবে কাউকে মারধর করতে পারেন না। আমরা তদন্ত করে দেখবো যদি প্রমাণ পাই তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, এর পূর্বে সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে বুয়েট ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারিকে ‘ইয়াবা নাটকে’ ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।

রুদ্র আজাদ, জাবি প্রতিনিধি