ফোনপ্রেমীরা ব্যবহার করতে পারছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা মোবাইল

স্মার্টফোন এখন তৈরি হচ্ছে দেশেই। আর দেশে তৈরি হওয়ায় ফোনপ্রেমীরা এসব স্মার্টফোন কিনতে পারছেন কম দামেই। আশা করা হচ্ছে খুব অল্পদিনেই দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এসব মোবাইল ফোন রফতানি হতে পারে বিদেশেও।

এরই মধ্যে ভালো জনপ্রিয়তা পেয়েছে দেশীয় কারখানায় তৈরি স্যামসাং, ওয়ালটন, সিম্ফনি ও আইটেলের কয়েকটি মডেল। মোবাইল নির্মাতারা বলছেন, দেশে শ্রমের মজুরি কম। অন্যদিকে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক লাগে না। ফলে দেশে তৈরি যে ফোন ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে আমদানি করলে তা বিক্রি করতে হতো ৩০ হাজার টাকায়। তবে সংশ্লিষ্টরা এও বলছেন, দেশে মোবাইল তৈরির কথা বলা হলেও আসলে দেশে স্মার্টফোন সংযোজোন হচ্ছে। বিদেশ থেকে কাঁচামাল হিসেবে যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশীয় মোবাইল ফোন নির্মাতারা সংযোজন করে বাজারে ছাড়ছেন। তবে একাধিক মোবাইল ফোন নির্মাতা দাবি করেন তারা একটি মোবাইল ফোন তৈরির মোট যন্ত্রাংশের ৫০ শতাংশের বেশি দেশেই তৈরি করে থাকেন। ফলে তারা মোবাইল ফোন সংযোজন বলতে নারাজ। দেশে তৈরি এসব স্মার্টফোনে মানের দিক দিয়ে কোনও আপস হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পরে বলেছিলাম এ বছর অন্তত ৫টি মোবাইল ফোন নির্মাতা কোম্পানি দেশেই মোবাইল তৈরি করবে। জানতে পেরেছি ৪টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎপাদনে গেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে অন্তত মোবাইল ফোনে আমরা আর আমদানিকারক নির্ভর দেশ নই। আমরা এখন উৎপাদকের দেশ। দেশে বসেই আমরা এখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারছি।’

জানা গেছে, স্যামসাং, ওয়ালটন, সিম্ফনি ও আইটেল দেশে গড়ে তোলা কারখানায় উৎপাদন শুরু করলেও পাইপ লাইনে রয়েছে উই সহ আরও কয়েকটি কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতে ‘লো-এন্ড’-এর স্মার্টফোন তৈরি করলেও ধীরে ধীরে ‘হাই-এন্ড’ সেট তৈরি করবে বলে জানায়। মোবাইল ফোনের গ্লোবাল ব্র্যান্ড স্যামসাং এর শাখা কারখানাও গড়ে উঠেছে দেশে। ফেয়ার গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে নরসিংদীতে। কোম্পানিটি এরই মধ্যে উৎপাদনে চলে গেছে এবং এ বছর থেকে দেশে তৈরি হচ্ছে তাদের ফোরজি স্মার্টফোন। ৫৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই কারখানায় ব্যবহারকারীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্যামসাং ব্র্যান্ডের ৯টি মডেল এই কারখানায় তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে বাজার মাতাচ্ছে জে ২ কোর এবং জে ৪ মডেল দুটি।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম মোবাইল ফোন তৈরি শুরু করে ওয়ালটন। সাভারে হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এলাকা গড়ে তুলেছে ওয়ালটন। গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে সেখানেই তৈরি হচ্ছে ওয়ালটনের স্মার্টফোন।