ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন

দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপে। সরকারের ব্যবস্থাপনার পরও অনিষ্টকারীরা এখনো সক্রিয় আছে বলে শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে অভিযোগ করেন তিনি।

ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপে গত বুধবার আগামী বছরের জানুয়ারিতে নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা বাতিল ঘোষণার পরও বিক্ষোভ না কমে বরং বাড়ছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট পর্যন্ত ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার এক তথ্যে জানা যায়, দেশটির রাজধানী প্যারিসের সিটি সেন্টারে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য অবস্থান নেয়। দেশ জুড়ে এই সংখ্যাটি ১ লাখ ২৫ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন

বিক্ষোভ শুরুর পরপরই আন্দোলনকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে দাঙ্গা পুলিশ। তারপরও বিক্ষোভকারীরা পিছু না হটায় আরও তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয় তাদের সঙ্গে পুলিশের। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ভিড় লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ে। এখন পর্যন্ত হাজার খানেক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশসহ এ পর্যন্ত ১২৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দ ফিলিপে। এ সময় তিনি বলেন, ‘সংলাপ শুরু হয়ে গেছে। এখন জরুরি জাতীয় ঐক্যের পুনর্গঠন।’ অন্যদিকে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রীর অভিযোগ, আন্দোলনে উগ্রপন্থীরা রসদ যোগাচ্ছে।

ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন

উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের মে মাসে হওয়া দাঙ্গার পর শনিবারই প্যারিসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনাটি ঘটল। প্যারিসের পরিস্থিতি ফ্রান্সের অন্য যে কোন জায়গা থেকে অনেক বেশি সহিংস। সেখানে অনেকগুলো গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। আন্দোলনের মাঝে একদলকে দোকানপাট ভেঙে লুটপাট করতেও দেখা গেছে।