ঝিনাইদহের চিনিকলের ২০১৮-২০১৯ মাড়াই মৌসুমের শুভ উদ্ধোধন

ঝিনাইদহের চিনিকলের ২০১৮-২০১৯ মাড়াই মৌসুমের শুভ উদ্ধোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে মিলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন ঘোষনা করেন প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ-৪ কালীগঞ্জ আসনের এম পি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম আনার।

এ উপলক্ষে এক দোয়া ও আলোচনা সভায় মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইউসুপ আলী শিকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, কেরু এন্ড কোং দর্মনা চিনিকলের এমডি এনায়েত হোসেন, মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আতিয়ার রহমান ও আখচাষী সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। মোচিক ইউনিয়নের সাংগাঠনিক সম্পাদক কবির হোসেনের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ ইউনুচ আলী প্রমুখ। এ সভার মাধ্যমে মিলের বড় আখচাষী উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শাজাহান শেখ, আহসান হাবিব ও ইউসুপ আলীর হাতে সন্মাননা স্বরুপ ক্রেষ্ট তুলে দেন। সভা শেষে প্রধান অতিথি আনার সহ অতিথিগন মিলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে মাড়াই মৌসুমের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

উল্লেখ্য, চলতি ২০১৮-১৯ মাড়াই মৌসুমে মিলটি ১ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৮ হাজার ১ শত মেঃ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। প্রায় ৩,শত কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১৮-২০১৯ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছে । এটি চিনিকলের ৫২তম মাড়াই মৌসুম। এ বছর ১ লাখ ৮ হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন আখা মাড়াই করে ৮ হাজার ১৩২ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৭.৫০। মিলটি ৮০ থেকে ৮৫ দিন চলবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। মিলে এখনো পর্যন্ত ১৪ কোটি টাকা মূল্যের আড়াই হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম ক্ষেতে হচ্ছে। কয়েক মাস পর পর বেতন দেওয়া হলেও ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কেটে রাখা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৭-২০১৮ মাড়াই মৌসুমে ৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে মিলটির।

এ পর্যন্ত ৩৫ মাড়াই মৌসুমে লোকশান হয়েছে ৩শ কোটি টাকা। বাকি মৌসুমে লাভ হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ আখ রোপন মৌসুমে ১০ হাজার একর আখ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখনো পর্যন্ত ৩ মাসে রোপন হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৮শ একরের জমিতে। এদিকে, গত মৌসুমে উৎপাদিত প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন চিনি গুদামে পড়ে আছে। চিটা গুড় আছে ১৫শ মেট্রিক টন। চিনির প্রতি কেজি মূল্য ৫০ টাকা। ফলে অবিক্রিত এসব চিনির মূল্য সাড়ে ১২ কোটি টাকা। অন্যদিকে পড়ে থাকা গুড়ের মূল্য দেড় কোটি টাকা। সব মিলিয়ে যার মূল্য দাড়াই ১৪ কোটি টাকা।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউছুপ আলী শিকদার জানান, মিল গোডাউনে চিনি অবিক্রিত রয়েছে। চিনি বিক্রি না হওয়ায় শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে মাড়াই মৌসুম শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় এ চিনিকলটি সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করতে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের কাছে।

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি