চাকরি পেতে ৫-১০ লাখ টাকায় চুক্তি, প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার!

শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর ও কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতারে করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সোহেল রানা, রবিউল আউয়াল, মাহমুদুল, আনসারুল ইসলাম, শ্রী দেবাশীষ, রাজিউর রহমান ও রেজাউল করিম। তাদের মধ্যে তিন জন পরীক্ষার্থী আর অন্য চারজন চক্রটি পরিচালনাকারী।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সকল তথ্য জানান ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান।

গ্রেফতারকৃত এ চক্রটি চাকরি প্রার্থীকে প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দিতে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ৫-১০ লাখ টাকায় চুক্তি করতো বলে জানিয়েছেন ডিএমপি উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান।

গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র প্রেরণের ৮টি ডিভাইস, ২৯টি ব্যাটারি, ৩টি পেনড্রাইভ, ৯টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ৯টি সিমকার্ড ও ৮টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মাসুদুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে চুক্তিবদ্ধ প্রার্থীকে উত্তর জানিয়ে এ চক্রটি প্রতি প্রার্থীর সঙ্গে ৫-১০ লাখ টাকায় চুক্তি করতো।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকে। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ চক্রের কয়েকজন সদস্য ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া মাত্র জব্দকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠায়। বাইরে অবস্থানরত সদস্যরা দ্রুত প্রশ্নপত্র সমাধান করে তাদের চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করে।

আর এ জন্য তারা অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগে থেকেই মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি করে। আর পরীক্ষায় পাশ করলে সেই টাকা তাদের পরিশোধ করতে হয় বলে জানান তিনি।

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, এই চক্রের একজন (সোহেল রানা) এর আগেও আমাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার ওপর আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো এতই সূক্ষ্ম যে কারও প্রতি সন্দেহ না হওয়া পর্যন্ত বোঝার ক্ষমতা নেই।