অরিত্রি আত্মহত্যার বিচারের দাবিতে কলেজের বাইরে মেয়েদের অবস্থান 

পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল করার অপরাধে টিসি দেয়ায় আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি অধিকারী (১৪) নামে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী। সোমবার দুপুরে শান্তিনগরের ৭ তলার বাসায় অরিত্রি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দিয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে বাধ্য করার প্রতিবাদে আবারও সড়কে নেমেছে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেয়েরা। 

বুধবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে সহপাঠীর আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে বেইলি রোড শাখার গেটের বাইরে বসে পড়েছে তারা।

স্কুলের গভর্নিং কমিটির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুদার বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি, তবে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

এদিকে সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা, তবে প্রতিবাদের সরব সহপাঠীরা। প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের নৈতিকতা ও গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়ে।

ভিকারুননিসা ক্যাম্পাস ও বাইরের সড়কে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিজ’ (ন্যায় বিচার চাই) স্লোগান দিচ্ছে তারা। এছাড়া নানা ধরনের প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড তৈরি করে তা ধরে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা আজকের (বুধবার) পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো সে বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুপুর সাড়ে ১২টায় পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।

মাশনুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিয়মিত রাস্তায় নামব। আর কেউ যেন এমন মৃত্যুর শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতেই আমাদের এ উদ্যোগ।