‘আমার মেয়ে নকল করেনি, সে নকল করতে পারে না’

পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল করার অপরাধে টিসি দেয়ায় আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি অধিকারী (১৪) নামে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ২৩/২৪, শান্তিনগরের বাসায় এ ঘটনাটি ঘটে।অরিত্রি ভালো ছাত্রী ছিল দাবি করে তার বাবা দিলীপ অধিকারী বলেছেন, আমার মেয়ে নকল করেনি। সে নকল করতে পারে না। সে ছাত্রী হিসেবে ভালোই ছিল।

অরিত্রির বাবা দীলিপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, অরিত্রি পরীক্ষায় মোবাইলে নকল করেছে। বড় ধরনের অপরাধ করেছে। তাকে স্কুলে রাখা যাবে না। তখন আমি এবং অরিত্রির মা অনেক অনুরোধ করি তাকে টিসি না দিয়ে আরেকবার সুযোগ দিতে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। অরিত্রিকে আরেকবার সুযোগ দিলে হয়তো আমার মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেত না। অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা আমাদের কথা রাখল না।

তিনি আরও বলেন, তার অপরাধ একটাই, পরীক্ষা হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া। এটা সে ভুল করে সঙ্গে নিয়েছিল। এই একটা ভুলের কারণে তাকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং প্রিন্সিপালের খারাপ ব্যবহার ছিল অমানবিক।

মঙ্গলবার রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের জানান, রোববার (২ ডিসেম্বর) পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অরিত্রির সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মেয়েকে এবারের জন্য ক্ষমা করে দিতে আমি হাতজোড় করে ওর শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। প্রিন্সিপালের কাছও গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন এবং রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। স্কুল থেকে অরিত্রী বাসায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দিলীপ বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনে আমাকে অপমান করেছে এবং জানিয়েছে অরিত্রী পরীক্ষা দিতে পারবে না। এ মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আমিও এর বিচার চাই।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, বাবাকে অপমান করায় নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সোমবার দিনভর বিক্ষোভ করেছে। বুধবার আবারও তারা স্কুলে অবস্থান নেবে।