আজ চিত্র জগতের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র দিলীপ বিশ্বাসের শুভ জন্মদিন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম চলচ্চিত্রকার দিলীপ বিশ্বাস। যার চিন্তা চেতনায় ছিল বাংলা সিনেমাকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া। তার হাত ধরে বাংলা ছবি পেয়েছে দারুণ নান্দনিকতা। আজ এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের জন্মদিন। তিনি সবার মাঝে বেঁচে না থাকলেও চলচ্চিত্রের অমর এই কারিগরের সৃষ্টি ও তার আত্মার শান্তি কামনায় ডেইলি মেইল ২৪ এর পক্ষ থেকে রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

১৯৪৬ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন। অনেকে শুধুমাত্র চিত্রপরিচালক হিসেবে জানলেও তিনি ছিলেন একাধারে পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনিকার, অভিনেতা ও গায়ক। দীলিপ বিশ্বাস এর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র জগতে আগমন ঘটেছিল ষাটের দশকে একজন গায়ক হিসেবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ জহির রায়হান এর বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি গায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি আনোয়ারা, মোমের আলো, দুই ভাই, আলোমতি, সন্তান ও চেনা অচেনা ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এরপর “হাবুর বিয়ে” নামে একটি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন।

দিলীপ বিশ্বাসের জন্মদিনে তার পুত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস স্মৃতিচারণ করে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন। পিতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে `শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবির এই নির্মাতা লিখেছেন, `তোমার জন্ম না হলে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র একজন সেরা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রকারকে পেতো না! তোমার জন্ম না হলে বাংলাদেশে প্যারোডি গানের জন্ম হতো না! তোমার জন্ম না হলে নব্বই দশকে ধুকতে থাকা কলকাতা`র সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আবার জেগে উঠতো না! তোমার জন্ম না হলে আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে পেতাম না! তোমার জন্ম না হলে আমি পৃথিবীর সেরা বাবাকে পেতাম না! শুভ জন্মদিন বাবা।`

দিলীপ বিশ্বাস চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকে এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে “আগুন নিয়ে খেলা” ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন। পূর্ণ-পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সত্তরের দশকে ‘সমাধি’ ছবিটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে। এটি ছিল  ব্যবসা সফল একটি চলচ্চিত্র। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তিন কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক, আলমগীর ও সোহেল রানা’কে একসঙ্গে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন “জিঞ্জির” চলচ্চিত্রটি। এটি সে সময় অসাধারণ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর থেকে তিনি একের পর এক দর্শক নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে গেছেন। উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে যেমন, দাবী, বন্ধু, আসামী, অনুরোধ, জিনজির, আনারকলি, অংশীদার, অপমান, অস্বীকার, অপেক্ষা, অকৃতজ্ঞ, “অজান্তে” এবং ২০০৫ সালে নির্মাণ শুরু করেছিলেন “মায়ের মর্যাদা” এটি ২০০৬ সালে মুক্তি লাভ করে।

এবং প্রযোজক হিসেবে তার ছিল গীতি চিত্রকথা নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এখানে চলচ্চিত্র প্রযোজনা সহ পরিবেশনও করা হয়। তার পরিচালনার বেশির ভাগ ছবির প্রযোজনা তিনি নিজেই করতেন। ২০০২ সালে পুত্র দেবাশীষ বিশ্বাস এর পরিচালনায় শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ প্রযোজনা করেছিলেন।

হটাৎ চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবাইকে কাঁদিয়ে ২০০৬ সালের ১২ জুলাই না ফেরার দেশে চলে যান গুণী এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here