ভুয়া স্বাক্ষর তালিকার অভিযোগে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল

সমর্থকের ভুয়া স্বাক্ষর জমা দেয়ার অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে হিরো আলমের মনোনয়ন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফ হোসেন। কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিরো আলম।

বগুড়া-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া অভিনেতা আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আজ রবিবার (২ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন এ সিদ্ধান্ত দেন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফ হোসেন। আশরাফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য স্থানীয় ভোটারদের এক শতাংশের সমর্থনসূচক কাগজে ভুল থাকায় আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন- ‘হিরো আলম ভোটারদের স্বাক্ষর-সম্বলিত যে তালিকা জমা দিয়েছেন তা যাচাই করা দেখা গেছে, তিনি ভুয়া ভোটারদের তালিকা জমা দিয়েছেন। কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র নিলে তাকে তার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর নিতে হয়। তবে হিরো আলম ভোটারদের স্বাক্ষর-সম্বলিত যে তালিকা জমা দিয়েছেন তা যাচাই করে অনেক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ভোটারদের ভুয়া স্বাক্ষরের তালিকা জমা দিয়েছেন তিনি। তাই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিরো আলম। তিনি মনে করছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সেজন্য মনোনয়ন বহাল রাখতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন হিরো আলম।

হিরো আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে অভিযোগ করা হয়েছে আমি সমর্থকের ভুয়া স্বাক্ষর জমা দিয়েছি। এটা সত্য নয়। নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি সত্যটা যাচাই করতে পারেনি।আমি আদালতে যাবো। আপিল করবো। এলাকার মানুষ চায় বলেই আমি নির্বাচনে এসেছি। আমি একজন মেম্বার। লোকে আমাকে আগেও ভোট দিয়েছে। আমার সমর্থক যে আছে এটা নতুন কিছু নয়। আশা করি আপিল করলে আমার মনোনয়পত্রটি বৈধ বলে স্বীকৃতি পাবে।’

হিরো আলম দাবি করেন, তার নির্বাচনী এলকা বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩০,১২৮১। তার এক শতাংশ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১২১ জন। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় ৩৫২৪ ভোটার সমর্থকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি তালিকা যুক্ত করে দিয়েছেন।

হিরো আলম বলেন, ‘৩৫২৪ জন সমর্থকের মধ্য থেকে ১০জন সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে ৭ জন সমর্থক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে তারা আমাকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেন। ৩ জন বলেছেন তারা আমার সমর্থক নয়, তারা স্বাক্ষরও করেনি। এটা নিয়েই আপত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তারা যাচাই করেনি যে আমার সমর্থকদের ভয় ভীতি দেখিয়ে মিথ্যে কথা বলানো হয়েছে। এলাকায় কেউ কেউ চায় না আমি নির্বাচন করি। হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে তারা আমাকে নিয়ে। তারাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। আমি নিয়ম মেনেই সব দাখিল করেছিলাম। কিন্তু ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্রে মাঠ ছাড়ব না। আপিল করব। আগেই বলেছিলাম শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকব, এখনো সে সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৮ নভেম্বর) বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মোছা. শারমিন আখতারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন হিরো আলম।