‘অনেকের প্রশ্ন, আমাদের মতো মানুষ কেন রাজনীতিতে আসবে!’

টাইগার দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন করছেন সেটা নিয়ে সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।এখন মাশরাফিকে নিয়ে দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে।নির্বাচনের পক্ষে এক দল অন্যদিকে বিপক্ষে এক দল। কিন্তু কেন মাশরাফিকে নিয়ে এতো দলাদলি? কেন তাকে নিয়ে এতো বাজে সমালোচনা?

যে মানুষটা নিজেকে বিলিয়ে দেন একটি জয়ের জন্য। যে জয় নিয়ে আমরা গর্ব করি। আনন্দ করি। সেই মানুষটাকে নিয়ে কোন খারাপ মন্তব্য করার আগে আমাদের এক বার ভাবা উচিত। কিন্তু কই আজ যদি সেই কথায় ভাবতাম তাহলে এই ভাবে প্রিয় ম্যাশকে উপস্থাপন করতে পারতাম না। পারতাম না তাকে নিয়ে অরুচিকর মন্তব্য করতে।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ফ্যান পেজে রাজনীতি আসা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে ক্যাপ্টেন ম্যাশ লিখেছেন, ২০০১, ক্রিকেটের আঙিনায় পথচলা শুরু। আজ ২০১৮। এই প্রায় দেড় যুগে ক্রিকেট যা খেলেছি, জীবন দিয়ে খেলেছি। কখনও আপোস করিনি। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আপোস করতেও চাই না। বাকিটা মহান আল্লাহর ইচ্ছা।

রাজনীতির তাড়না আমার ভেতরে ছিলই। কারণ, সবসময় বিশ্বাস করেছি, রাজনীতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন জোরালোভাবে সম্ভব নয়। ক্রিকেট খেলেছি, আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। নাহলে হয়তোবা ২০১১ সালেই হারিয়ে যেতাম। এই মাশরাফিই হয়তো এতদিনে থাকতো না। ২০১১ সালে আপনাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে এই সাত বছর চলতে সহায়তা করেছে। এবার আমার সামনে সুযোগ এসেছে আমার দেশের মানুষের জন্য কিছু করার। বিশ্বকাপের পরের সাড়ে চার বছর আমার জন্য কী অপেক্ষায় আছে, সেটাও জানি না। তাই আমি সময়কে মূল্যায়ন করেছি। সময়ের ডাক শুনেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সময়ের কাজ সময়েই করা উচিত।

বঙ্গবন্ধুকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি, কিন্তু তার কথা জেনে, উপলব্ধি করেই বেড়ে উঠেছি। পড়াশোনা করে, অনেকের কাছে শুনে যতটুকু জেনেছি, সেসব থেকেই উনাকে হৃদয়ে ধারণ করেছি। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পারিবারিকভাবেই আমার অস্থি-মজ্জায়, মননে-মগজে।

এখন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন কাজ করছেন, তার সারথি হয়ে আমার এলাকার জন্য কিছু করতে চাই। এটা যদি করতে না পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হবে, আমার এলাকার প্রতি আমি মোটেও সুবিচার করছি না। বঞ্চিত করছি। ক্রিকেট খেলতে খেলতে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যতটুকু সামাজিক কাজ করেছি; আমার মনে হয়েছে, সেটুকুই যথেষ্ট নয়। আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ খুঁজেছি সবসময় এবং রাজনীতি আমাকে সেই সুযোগটা করে দিচ্ছে।

কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলকে আঘাত করার জন্য আমি রাজনীতিতে আসছি না। যে যার আদর্শ নিয়ে সুন্দর জীবন-যাপন করবে, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরাজ করবে, সেটিই আমার চাওয়া।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আমাদের মতো মানুষ কেন রাজনীতিতে আসবে! সত্যি বলতে, আমি জানি না, আমি কেমন মানুষ।

ভালো মানুষ হিসেবে আমার যে পরিচিতি ছড়িয়েছে, সেটাও আমার ভেতর বারবার প্রশ্ন জাগিয়েছে, কেন আমি ভালো মানুষ? দুটি বল করে, আপনাদের কয়েকটি আনন্দের মূহুর্ত উপহার দিয়ে, দু’জনকে জড়িয়ে ধরেই যদি ভালো মানুষ হওয়া যায়, তাহলে স্রেফ এরকম ভালো মানুষ হওয়ার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। সত্যিকার অর্থেই আমি কেমন মানুষ, আমার বিশ্বাস, সেটি বিচার করার সময় সামনে। যদি আমি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারি এবং আমার দল সরকার গঠন করে, তার পর আমার কর্মেই ফুটে উঠবে আমি কতটা ভালো মানুষ।

জানি, বলা যত সহজ, কাজ করে দেখানো তার চেয়ে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা নিতে আমি পিছপা হইনি। চাইলেই আমি নিজের সহজাত পরিবেশের ভেতর থাকতে পারতাম। কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি, আমার এলাকার মানুষ সমৃদ্ধির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাক। আলো ছড়িয়ে পড়ুক নড়াইলবাসীর উপর। আমি চাই সমৃদ্ধ নড়াইল। সেই পথে আমার যত কষ্টই হোক, আমি থাকবো আমার প্রিয় নড়াইলবাসীর পাশে।

মনোনয়নপত্র কেনার সপ্তাহখানেক আগে আমার মেয়েকে আমি ব্যাংককের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। কিন্তু আমি ভেবেছি, ওই মানুষটির কথা, যে আরও অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েও প্রাপ্য চিকিৎসা পাচ্ছে না। আমি ভেবেছি সেই ছেলে-মেয়েদের কথা, যারা প্রতিভাবান হয়েও মফস্বল থেকে উচ্চশিক্ষার দুয়ার পর্যন্ত যেতে পারছে না। ভেবেছি খেটে খাওয়া সেই মানুষদের কথা, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও প্রাপ্যটুকু অনেক সময় পাচ্ছে না।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সব সচেতন, যোগ্য ও ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা উচিত। অনেকেই হয়তো সাহস করে উঠতে পারেননা নানা কারণে, মানসিক সীমাবদ্ধতায়। আমার মনে হয়েছে, মানসিক বাধার সেই দেয়াল ভাঙা জরুরি। তাই ভেতরের তাগিদ পূরণের উদ্যোগটা আমিই নিলাম। ক্রিকেটের মাঠে দেড় যুগ ধরে তিলতিল করে গড়ে ওঠা মাশরাফির অবস্থান হয়তো আজ অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে রাজনীতির মাঠে নামার কারণে। কিন্তু আমি নিজে সত্যিকার অর্থেই রোমাঞ্চিত নতুন কিছুর সম্ভাবনায়। আমি আশা করি এমন কিছু করতে পারব, যা দেখে ভবিষ্যতে হাজারও মাশরাফি এগিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ।

আমি আবারও বলছি, কোনো ব্যক্তি বা দলকে আঘাত করার ইচ্ছে আমার নেই। কেবল সময়ের দাবি মেটানোর চেষ্টা করছি মাত্র। আশা করি, আপনাদের ভালোবাসা আমাকে এই ইনিংসেও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনাদের সমর্থন ও দোয়ায় সিক্ত হতে চাই।

এই পোস্ট শেয়ারের পর থেকেই ম্যাশকে নিয়ে কিছু মানুষ অরুচিকর ভাষায় মন্তব্য করতে থাকে।সেখান থেকে কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো।

Mohsin Reza একজন ক্রিকেটার ও মানুষ হিসেবে দল ও দেশের প্রতি যে দায়িত্ববোধ ও মমতা এবং দেশপ্রেম দেখিয়েছিলেন তা একটা মাত্র মূহুর্তেই শেষ করে দিলেন।

আওয়ামীলীগ এই মূহুর্তে একটা স্বৈরতান্ত্রিক দল ও ভারতের সহযোগিতার গণতন্ত্র হত্যা করে এই দেশ কে একটা মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, সেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে মাশরাফি একটা একটা ভুল করলেন।

রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলে তা সরাসরি করতে পারতেন, রাজনীতি করার অধিকার তো সকল নাগরিকেরই আছে। আপনিও সরাসরি নিজের ইচ্ছায় ও নিজের স্বতন্ত্র রাজনীতি করতেন কিন্তু তা না করে আওয়ামীলীগের মতো একটা মাফিয়া জঙ্গবাদী ও দেশদ্রোহী রাজনৈতিক দলের যোগ দিয়ে আপনি দেশের মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার সাথে প্রতারনা করেছেন।

ক্রিকেট দলে থাকা অবস্থায় রাজনীতিটা কোন ভাবেই কাম্য নয় কারন আপনি এই দেশের জনগণের প্রতি এখনো দায়বদ্ধ।

Riaz Hasan ভোট ডাকাতের দোসর, ব্যাংক লুটের দোসর, গনতন্ত্র হরণের দোসর, গুমের দোসর!! শেইম অন ইয়্যু মাশরাফি। এতোই যখন লীগপ্রেম বাংলাদেশের জার্সি পরে আর খেলতে নাইমেন না, মুজিব কোট পরে খেলিয়েন।

Humaira Tabassum Himi আগে মানুষ এন্টারটেইমেন্ট পেতো মিস্টার বিন দেখে, তারপর আসলো সুলায়মান সুখন, তারপর জাফর ইকবাল,

এখন এসেছে নতুন ছাগল, তাকে করে দাও একটু স্থান! ????????

Bidrohi Lekhok বুকে যদি দেশের জন্য বিন্দু পরিমান দেশপ্রেম থাকে তাহলে সে আবার BAL এর এম্পি হতে চায় কিভাবে?
থুথু মারি মাশরাফির মুখের উপ্রে..

Kana Bodrul তুমি মিয়া বেকুবের মত আওয়ামী লীগে গেলা কেরে?
আমি বলছি না তুমি বিএনপিতে যাইতা।
কিন্তু ল্যাদা আলম কে দেখো,তোমার মত এতো হেটার্স নাই।

এ বাংলার মানুষ ভীতু,সরল হইলেও বোকা না।
সবি বুঝে।

Zahid Hasan বিনা ভোটে এম্পি হতে চাওয়ায় মাশরাফির জন্য একগ্লাস সমুবেদনা,,,
কারণ নড়াইল-২ এ বি.এন.পি কোনদিন হারে নাই।

ভক্তদের এমন ভালোবাসা দেখে হয়তো মাশরাফি কিছু বলতে পারবেন না। আড়ালেই কাঁদবেন।কারণ ম্যাশ সব সময় বিশ্বাস করেন আজ ভক্তদের ভালোবাসায় তিনি কৌশিক থেকে মাশরাফি হতে পেরেছেন।তাই তিনি কিছু বলবেন না। তবে তিনি যে সৎ মনে সবসময় কাজ করেন আর ভবিষ্যৎতেও করবেন সেটা সময় হলেই বুঝিয়ে দিবেন।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here