পরিবহন ধর্মঘটের ফলে চট্রগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা

পরিবহন ধর্মঘটের ফলে ব্যাহত হয়েছে চট্রগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহন। এই ধর্মঘটের প্রভাবে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি কোনো রফতানি পণ্য। একইভাবে কোনো আমদানি পণ্যও বন্দরের ভেতর থেকে বের হতে পারেনি। যার ফলে আটকা পড়ে আছে প্রায় ৫ হাজার কনটেইনার।এছাড়া খোলা পণ্য পরিবহনও হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে বন্দরে। গাড়ি চলাচল না করায় পণ্য ডেলিভারি সকাল ৮টা থেকে বন্ধ হয়ে যায়। পণ্য নিতে কোনো গাড়ি বন্দরের ভেতরে যায়নি। পণ্য নিয়ে আসা কোনো গাড়িও বন্দরে প্রবেশ করেনি। তবে জাহাজ চলাচল ও বন্দর জেটিতে কাজকর্ম স্বাভাবিক ছিল। জেটিতে জাহাজে পণ্য ওঠা-নামা হয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিংহভাগ আমদানি-রফতানি পণ্যই সড়ক পথে পরিবহন করা হয়। এ কারণে পরিবহন ধর্মঘট হলে বন্দরের পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা দেখা দেয়। আমদানি রফতানি পণ্য আনা-নেয়া করতে প্রতিদিন বন্দরে প্রায় ৫-৭ হাজার ট্রাক-কাভার্ড-ট্রেইলার প্রবেশ করে। প্রতিদিন ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার কনটেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আনা-নেয়া হয়। এদিকে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রাইভেট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) কাজ হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি হয় তার ৯০ শতাংশই বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা ১৭টি আইসিডি হয়ে বন্দরে নিয়ে জাহাজীকরণ করা হয়। আমদানি পণ্যের একটি বড় অংশও আইসিডি হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো’স অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন শিকদার জানান, রোববার সকাল ৮টা থেকেই পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এদিন রফতানি পণ্যবোঝাই ১ হাজার ৮০০ টিইউইএস (টুয়েন্টি ফিট ইকুইভিলেন্ট কনটেইনার ইউনিটস) কনটেইনার জাহাজীকরণের জন্য জেটিতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

অপরদিকে ১ হাজার টিইউইএস আমদানি কনটেইনার বন্দর থেকে আইসিডিতে আনার কথা। একইভাবে আরও প্রায় দুই হাজার খালি কনটেইনার আইসিডি থেকে বন্দরে ও বন্দর থেকে আইসিডিতে পরিবহনের শিডিউল ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার কনটেইনার আইসিডি ও বন্দরের ভেতরে আটকা পড়ে।

তিনি বলেন, ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে আজ থেকে বন্দরের ভেতরে রফতানি কনটেইনারের সংকট দেখা দেবে। সঠিক সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারলে কনটেইনার ছাড়াই জাহাজ চলে যেতে হবে। অতীতে শিপমেন্ট মিস করার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রফতানি হওয়া পণ্যের ৮০-৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। তাই ধর্মঘটের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবচেয়ে বেশি।