নিষেধাজ্ঞা শেষে সর্বত্র কমেছে ইলিশের দাম

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় অভয়াশ্রমে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার সরগরম বরিশালে ইলিশের পাইকারি বাজার। 

গত রবিবার রাত ১২টায় নিষেধজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়। আজ সোমবার প্রথম দিনেই বরিশালে পাইকরি বাজারে এসেছে প্রায় ৪ হাজার মণ ইলিশ। ইলিশের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও তুলনামূলক কম।

ডিমওয়ালা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টার পর দেশের সকল নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নদ-নদীতে মাছ শিকাররোধে মৎস্য বিভাগ এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ৯৬১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১৮৫২টি অভিযান পরিচালত হয়। এ সময় ৮৯০টি মামলার বিপরীতে ৯৩১ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদায় করা হয় ১৭ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা। জব্দ করা হয় প্রায় ৮ টন ইলিশ।  এবার বরিশালে প্রায় ৫০ ভাগ মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পেড়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আজ ভোর থেকে জেলা এবং বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট ছোট ট্রলারে মাছ আসতে শুরু করে। প্রতিটি ট্রলার ছিল ইলিশে ভরপুর। প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় আগের চেয়ে দামও তুলনামুলক কমেছে।

আজ বরিশাল মোকামে এক কেজি থেকে বড় সাইজের প্রতি মণ ইলিশ ৩৪ থেকে ৩৬ হাজার, ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম (এলসি) সাইজের প্রতি মণ ২০ থেকে ২১ হাজার, ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম (ভ্যালকা) সাইজের প্রতি মণ ১৪ থেকে ১৬ হাজার এবং ৩শ’ থেকে ৪শ’ গ্রাম সাইজের (গোটলা) প্রতি মণ ইলিশ পাইকরি ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আগামী কয়েক দিন ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।