জাবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ উঠেছে। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে একের পর অনৈতিক ও অমানবিক কর্মকান্ড করছেন তিনি। রিকশাচালকদের মারধর, বহিরাগতদের মারধর ও মাদক চোরাকারবারীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচলরত বেশ কয়েকটি অটো রিক্সা ও ভ্যান ভাংচুর এবং চালককে মারধর করেছেন সুদীপ্ত শাহীন। অনুসন্ধানে দেখা যায় সর্বমোট ১৫-১৮ টি অটো রিক্সার চাকা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দেন তিনি। এ সময় রিক্সা চালকদেরকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক রিক্সাচালক। আহমদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ রিক্সা চালক জানান- “আমি আজ প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রিক্সা নিয়ে এসেছি। শরীরটা খুব অসুস্থ ছিলো এইজন্য বটতলা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তাই একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ শাহীন স্যার আরো কয়েকজন বড় ছুরি নিয়ে আসলো আর আমার রিক্সার চাকা কেটে দিলো। তাদের পায়ে ধরে কত অনুনয় বিনয় করলাম তবু ছাড়লো না। বলেছিলাম বাবা আমার গলায় ছুরি দাও তবৃু রিক্সায় দিও না আমার ঠিক করার মত টাকা নাই।”

এইদিকে আহমদ আলীর অসুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে পড়ে থাকার খবর জানতে পেরে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তার পাশে দাঁড়ান। এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা জানান- “নিজের চিকিৎসার ব্যয় জোগাড় করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রিক্সা চালাতে আসেন আহমদ আলী। কিন্তু নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা তার রিক্সার চাকা কেটে দেন। তিনি তাদের পা ধরে কান্নাকাটি করলেও তাকে রেহায় দেয়নি। তার গায়ে ছিল ১০৩ ডিগ্রি জ্বর। চিকিৎসার খরচ তো জোগাড় হয়নি বরং ভাংচুর করা রিক্সা ঠিক করার জন্য ১৪০০ টাকার প্রয়োজন। অসুস্থ আহমদ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা তাকে রিক্সা ঠিক করার জন্য ১৪০০ টাকা দেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে রিক্সা চালক আহমদ আলীকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা ও করেন তিনি।”

অন্যদিকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে মাদক চোরাকারবারীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কিছু মাদক বহণকারীদের ধরেলেও তিনি তার অনুগত মাদক ব্যাবসায়ীদের বাঁচানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। গত ২২ আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের গাড়ির ড্রাইভারের কাছে ২০ পিচ ইয়াবা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জামালের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের পিয়ন একরাম হোসেন মোল্লা ও রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন ফারুক আহমেদ মামুন কে আটক করেন সুদীপ্ত শাহীন। কিন্তু সুদীপ্ত শাহীন জামালকে সাংবাদিকদের সামনে না নিয়ে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এছাড়াও গত ১৫ আগষ্ট বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম তাহমিদ আহমেদ।

এ ব্যাপারে তাহমিদ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- “আমি কোনরূপ অসংলগ্ন কিংবা আপত্তিকর অবস্থায়
ছিলাম না। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাকে মারধর করেছে।” এ ব্যাপারে জানতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন- “আমাদের নিরাপত্তা টিম আজ বেশ কয়েকটি অটো রিক্সা অকেঁজো করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোন অটো রিক্সা চলতে দেওয়া হবে না। ইতিপূর্বে কয়েকবার মাইকিং করা হয়েছে তারপরও বন্ধ না হওয়ার কারণে আমাদের এই অভিযান।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নিয়ম কানুন আছে তারপরেও আমরা মানুষ। সে হিসেবে আমাদের মানবিক হওয়া প্রয়োজন। শাহীন ভাই বাবার বয়সের একজন মানুষকে এভাবে ক্ষতি না করলেও পারতেন।” বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা যখন তখন যাকে তাকে মারধর করছেন। এছাড়া তার নামে আরো অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না জানি না। তবে আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাবস্থা নিবেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন- “নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন এভাবে কারো উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন না। তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। কিন্তু যাকে তাকে এভাবে মারধর করা ভাংচুর করার অধিকার তার নেই।”

রুদ্র আজাদ, জাবি প্রতিনিধি