জাবিতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবীতে অফিসকক্ষে তালা

ছাত্রী উত্যক্তর ঘটনার জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবী করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার হলের প্রভোস্ট অফিসে গেলে তাকে তার কক্ষে ঢুকতে দেয়নি শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবী জানায়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্যক্তর ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে আল বেরুনী হলে হামলা চালায় মীর মোশাররফ হলের ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। এতে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। হামলা শুরু হলে হলের ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আল বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে তিনি সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পরে ঘটনাস্থলে আসেন। এমনকি আহত শিক্ষার্থীদের কোন খোঁজ খবরও নেননি তিনি। হামলার ঘটনার পর প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলে আসলে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে ঐ রাতেই উত্তেজিত নেতা কর্মীরা হলের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও আল বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র আবু সাদাত সায়েম বলেন- ‘আমরা শুধুমাত্র প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবীতেই হল অফিস তালাবদ্ধ করেছি। হল প্রভোস্ট তার দায়িত্বে উদাসীন,ব্যর্থ। হলে হামলার ঘটনা জানানোর পরও তিনি কোন সাড়া দেননি। ঘটনা ঘটার পর তিনি মেডিকেলে আসেন। তিনি অধিকাংশ সময় হলের বাইরে অবস্থান করেন। আমরা বার বার তাকে জানিয়েছি কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই। ছাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি বরাবরই উদাসীন। তাই তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা অফিস তালাবদ্ধ করে রাখব।’

জাবিতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবীতে অফিসকক্ষে তালা

কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভোস্ট আমজাদ হোসেন বলেন- ‘হলের সকল দায়িত্ব সর্বদা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করি। হলের সকল সংকট নিরসনে সবসময় কাজ করি। এছাড়া আল বেরুনী হলে হামলার কারণে একটি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ ছাড়া এ সঙ্কটের কোন সমাধান সম্ভব নয়। আমি চাইলেই সমাধান করতেও পারবো না।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এক ছাত্রীকে ইভটিজিং এর জের ধরে আল বেরুনী হল ও মীর মোশাররফ হলের ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।