আজ সৈয়দ শামসুল হককে দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

সব্যসাচী লেখক, কথাশিল্পী, কবি সৈয়দ শামসুল হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সাথে দিবসটি পালন করছে কুড়িগ্রামবাসী। কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জন্মস্থান কুড়িগ্রামে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কবির সমাধিতে পূষ্পস্তবক অর্পণ, র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশগ্রহণ করে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি আব্রাহাম লিংকন বলেন, দিবসটি উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় উত্তরবঙ্গ জাদুঘর প্রাঙ্গণে কবির জীবন কর্মের ওপর নির্মিত নানা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।

এদিকে, কবির সহ-ধর্মিনী কথা শিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক জানান, সৈয়দ হকের ছোট ভাই মঙ্গলবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। এ কারণে কবির জন্মবার্ষিকীতে পারিবারিকভাবে গ্রহণ করা সকল কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের এই মেধাবী কবি ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে তিনি প্রায় ৪ মাস লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিলে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, চলচ্চিত্র, গান, অনুবাদসহ সাহিত্যে-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সাবলীল লেখালেখির জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়ে থাকে। তার লেখকজীবন প্রায় ৬২ বছরব্যাপী বিস্তৃত। সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রথম লেখা একটি গল্প, যা ১৯৫১ সালে ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ নামে একটি ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। ১৯৬৬ সালে তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক এবং ২০০০ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন।

তিনি ১৯৫৯ সালে মাটির পাহাড় চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেন। এরপর তোমার আমার, শীত বিকেল, কাঁচ কাটা হীরে, পুরস্কার, ক খ গ ঘ ঙ, বড় ভাল লোক ছিল,সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেন।‘ বড় ভাল লোক ছিল’ ও ‘পুরস্কার’ এ দুটি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রের জন্য গানও রচনা করেছেন। এখানেও তিনি সফল হয়েছেন এবং পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ত্যাগ করে লন্ডন চলে যান এবং সেখানে বিবিসির বাংলা খবর পাঠক হিসেবে কাজ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসর্মপণের খবরটি পাঠ করেছিলেন। পরে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি