জাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও ছাত্রী মারধরের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ও এক বহিরাগতকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। আর শাখা ছাত্রলীগের ৮-১০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে এই মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়।

গতকাল সুইমিং পুল এলাকায় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ও এক বহিরাগতকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জাবিতে। লাঞ্ছনার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও চ্যানেল আই অনলাইনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহমুদুল হক সোহাগ এবং মারধরের সময় তার সঙ্গে থাকা একই বিভাগের ৪৬ তম আবর্তনের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর এ ঘটনায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আর শারীরিক লাঞ্ছনা ও ছিনতাইয়ের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন বহিরাগত বিল্লাল হোসেন ও তার বান্ধবী।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুল এলাকায় ঘুরতে আসেন বিল্লাল হোসেন। সেখানে ইয়া-রাফিউ শিকদার আপনের নেতৃত্বে চারজন ছাত্রলীগ কর্মী বিল্লাল ও তার বান্ধবীর পরিচয় জানতে চান। কথা বলার একপর্যায়ে তাঁদের দুইজনের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় বাঁধা দিতে গেলে বিল্লাল হোসেনকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন আপন। মারধরের ঘটনা দেখে পাশে অবস্থান করা মাহমুদুল হক সোহাগ সেদিকে এগিয়ে যান। নিজের পরিচয় দিয়ে ঘটনা জানতে চান। ঘটনা জানতে পেরে বিল্লাল এবং তার বান্ধবীর মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ফেরত দিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। সেগুলো ফেরত দিয়ে সেখান থেকে চলে যান ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে বিল্লাল হোসেন তার বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে সুইমিংপুলের পাশে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ভবনের সামনে গেলে আবারো ছাত্রলীগের ওই চার কর্মী তাদের পথরোধ করে বিল্লালকে বেধড়ক মারতে থাকেন।

এসময় সোহাগ ঘটনাস্থলে আবারো উপস্থিত হন এবং বহিরাগত দুই জনকে মারধরে বাঁধা দেন। তখন সোহাগের সাথে ছাত্রলীগ কর্মীদের বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এরপর সোহাগ, বিল্লাল হোসেন, তার বান্ধবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী সেখান থেকে সামনে এগিয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনের পাশে এলে নিজাম উদ্দিন, শুভাশীষ ঘোষ, সোহেল রানা সহ আট-দশ জন ছাত্রলীগকর্মী তাদের পথরোধ করে সোহাগকে মারধর করেন। সোহাগকে উদ্ধার করতে গেলে তার সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকেও মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এতে মাহমুদুল হক সোহাগ ও ওই ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থান কেটে গিয়ে রক্তপাত হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা শাখা ছাত্রলীগের চার কর্মীকে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করেছেন। তারা হলেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী নিলয়, বাংলা বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শুভাশীষ ঘোষ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা ও ইয়া-রাফিউ শিকদার আপন। তারা সবাই শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী। এদের মধ্যে নিলয় শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন হল কমিটিতে শহীদ রফিক জব্বার হলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এ বিষয়ে প্রক্টর শিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন- “অভিযোগপত্র পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকেই আমরা কাজ শুরু করবো। দোষীদের চিহ্নিত করে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, “ঘটনা শুনেছি। অভিযুক্তরা প্রথম বর্ষের ছাত্র। তারা সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে অভিযুক্তদের কেউ ছাত্রলীগকর্মী হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।