জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবী’তে সংবাদ সম্মেলন করেছে আজ।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ” এর ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী পেশ করেন উপাচার্য বিরোধী এ শিক্ষক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য নেতারা বলেন “প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সমর্থনপুষ্ঠ বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন বিতর্কিত ও অনিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কওে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও ভাবমূর্তি ভূলুন্ঠিত করছে। শিক্ষক লাঞ্চনা, বিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন অনুষদে ডিন নিয়োগ, বিভিন্ন পদে শিক্ষকদের সাথে অশোভন উপায়ে অব্যাহতি প্রদান এবং অবাধ বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত অযোগ্য ব্যক্তির নিয়োগের মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে”।

নেতার আরো বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ লঙ্ঘন করে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থপরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক লাঞ্ছণার বিচার না করা, নিয়ম না মেনে হলের প্রাধ্যক্ষ ও অনুষদের ডিন নিয়োগ দেওয়া, সিনেট অধিবেশন ও নিয়মিত সিন্ডিকেট সভা না ডাকা, জাকসু নির্বাচনের জন্য দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়াসহ নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। উপাচার্যের অধ্যাদেশ পরিপন্থি এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষকেরাও বিভিন্ন সময় লাঞ্ছিত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম উপাচার্য পদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন বলে জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি অজিত কুমার মজুমদার, সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, সহসভাপতি কৌশিক সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর কবির প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

———
রুদ্র আজাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি