নাজিম উদ্দিন রোডের ঐতিহ্যবাহী খাবারের হোটেলে কুকুরের মাংস বিক্রির অভিযোগ

রাজধানীর ৪৮ বছরের নাজিম উদ্দিন রোডের ঐতিহ্যবাহী খাবারের হোটেল ‘নিরব’ এ গরুর মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে ‘রুদ্র সাইফুল’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। গুজব রটানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘নিরব হোটেল’ কর্তৃপক্ষ।

নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘নিরব হোটেল’-এ গরুর মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে ‘রুদ্র সাইফুল’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেয়া হয়। যা পরবর্তিতে ভাইরাল হয়। ফেসবুকে সাইফুলের দেয়া পোস্ট কপি করে অনেকেই একই পোস্ট দিয়েছেন। কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্টটি শেয়ার করে ‘রুদ্র সাইফুল ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে নেয়া’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পোস্টদাতা রুদ্র সাইফুলের মোবাইলে শনিবার সকালে দুবার কল দিলে তিনি লাইনটি কেটে দেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পোস্টটিতে কুকুরের মাংস বিক্রির অভিযোগে নিরব হোটেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করা হলেও আজ শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর সকালে গিয়ে হোটেলটি খোলা পাওয়া যায়। অনেককেই নাস্তা খেতে দেখা যায়।

নিরব হোটেলের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন- ‘আমাদের ধ্বংস করার জন্য এ অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় জিডি করেছি। যারা এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের সুনাম নষ্ট করেছে তাদের সনাক্ত করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ নিরব হোটেলের আরেক স্বত্বাধিকারী আমিনুর রহমান এজাজ জানান-  ‘১৯ তারিখ এ পোস্টটি অনেকে আমার ফেসবুক ইনবক্সে পাঠায়। সঙ্গে সঙ্গে আমি রুদ্র সাইফুলকে ইনবক্সে তথ্য সূত্র ও ভুল পোস্ট দেয়ার কারণ জানতে চাই। ৩ দিনেও তিনি পোস্টটির কোনো রিপ্লাই দেননি। আমরা হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ দেখেছি। উনি সম্প্রতি হোটেলে আসেননি। তার ফেসবুক সূত্রে জানতে পারলাম তিনি ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিকের রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র, এনটিভি ও জনকণ্ঠে কাজ করেছেন। তাকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। আমাদের এখানে প্রতিদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা খাবার খাচ্ছেন, কারও কোনো অভিযোগ নেই। কোনো ধরনের তথ্য প্রমাণ ছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে এমন অপবাদ দেয়া এবং সাড়ে ১১ হাজার ফলোয়ারের মধ্যে এ মিথ্যা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন্য যারা না জেনে পোস্টটি শেয়ার করে গুজব ছড়িয়ে আমাদের ব্যবসা ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এ ঘটনায় জনৈক সাইফুল এর বিরুদ্ধে রাজধানীর চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।