’ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন’ উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী

শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুর পাইপ লাইনে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এসে পৌছবে জ্বালানী তেল “ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন” নির্মাণকাজ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। 

রেলওয়ে ওয়াগনের পরিবর্তে এবার ভারত থেকে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপোতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানী তেল (ডিজেল) আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ “ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন” নির্মাণকাজ আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সিং-এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। নির্মাণকাজ শেষ হলে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কয়েক ঘন্টার মধ্যে এসে পৌছবে জ্বালানী তেল। এতে উত্তরাঞ্চলের জালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম জানান,বাংলাদেশ পেট্রেলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও ভারতের শিলিগুড়ির নুমালীগড় রিফাইনারী লিমিটেড-এর মধ্যে গত ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ নুমালীগড় রিফাইনারী হতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে আমদানীকৃত ডিজেলের প্রথম চালান পার্বতীপুর ডিপোতে আসে।

জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপ লাইনের ভারত অংশে থাকবে ৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ অংশে থাকবে ১২৫ কিলোমিটার। ১০ ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট এই পাইপ লাইন ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পঞ্চগড় ও নীলফামারী হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌছবে। ভারত ও বাংলাদেশের সীমানায় থাকবে তেল মাপার যন্ত্র কাস্টডি ফ্লো মিটার। এই পাইপ লাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল পরিবহন সম্ভব।

প্রায় ৫২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই পাইপলাইন নির্মানের খরচ ৩০৩ কোটি রূপী দেবে ভারত এবং ১৫০ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ। আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।

জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আরও জানায়, বর্তমানে আমদানীকৃত জ্বালানী তেল চট্টগ্রাম প্রধান স্থাপনায় মজুদ করা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম হতে জলপথে খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে প্রেরণ করা হয় এবং রেলওয়ের ট্যাংক ওয়াগনের মাধ্যমে পার্বতীপুর তেল ডিপোতে আনা হয়। এতে চট্টগ্রাম থেকে পার্বতীপুর তেল ডিপোতে তেল আসতে কমপক্ষে সময় লাগে ৭ দিন এবং এই পরিবহন ব্যবস্থা সময় সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও ঝুকিপুর্ণ।

কিন্তু ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপ লাইন নির্মাণকাজ শেষ হলে ভারতে শিলিগুড়ি থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পার্বতীপুর ডিপোতে তেল পৌছানো সম্ভব।

 

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি