কোটচাঁদপুরে মুক্তিপনের টাকা নিতে এসে মাইক্রোসহ অপহরণকারী গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থেকে অপহৃত সুজনকে বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ সময় অপহরণকারী একজনকে গ্রেপ্তার ও অপহরণে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস আটক করে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) কোটচাঁদপুর মেইন বাসষ্ট্যান্ড থেকে সুজন (২৫) অপহরণ হয়।

কোটচাঁদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে দুধসরা গ্রামের বিশু মিয়ার ছেলে সুজন কোটচাঁদপুর মেইন বাসষ্ট্যান্ড থেকে অপহরণ হয়। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতো না। অপহরণকারীরা বৃহস্পতিবার সকালে সুজনের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করলে বিষয়টি পরিস্কার হয় সুজনের পরিবারের কাছে। এ সময় দর কষাকষির এক পর্যায়ে ৫ লাখ টাকা দিলে সুজনকে ছেড়ে দিতে রাজি হয় অপহরণকারীরা।

বিষয়টি কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী সুজনের মামা হাবিবুল্লাহ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার সময় কোটচাঁদপুর সরকারী হ্যাচারী কমপ্লেক্সের মূল গেটের সামনে হাজির হন। তার আগে থেকে ঘটনাস্থালের আশপাশে ওসি বিপ্লব কুমার সাহার নেতৃত্বে এসআই সৈয়দ আলী, এএসআই পিণ্টুসহ হ্যাচারি এলাকায় সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য ওৎ পেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ৫/৬ জনের একটি অপহরণকারী দল মাইক্রো যোগে হ্যাচারী কমপ্লেক্সের গেটে এসে নামলে পুলিশ এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। বাকীরা মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে যায়।

(মাইক্রো নং-চট্ট মেট্টো-চ-১১-৩৫৬৭) এসময় মাইক্রো থেকে সুজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী কোটচাঁদপুর কলেজষ্ট্যান্ডের মৃত মশিয়ার রহমানের ছেলে শাহারিয়ার রহমান মামুন। সে মাদকাসক্ত ও নানা সমাজ বিরোধী কাজের সাথে জড়িত। ভিকটিম সুজন আহাম্মেদকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি বিপ্লব সাহা আরো বলেন, এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নতুন কিছু পেলে আপনাদেরকে পরে জানানো হবে সেই সাথে মামলা দায়ের করা হবে।

এদিকে, অপহৃত সুজনের মামা মহেশপুর উপজেলার আলামপুর গ্রামের হাবিবুল্লাহ বলেন, সুজন লেবাননে ছিল। ৬মাস আগে সে ছুটিতে বাড়িতে আসে। সুজন বাড়িতে এসে লেবাননে পাঠানোর নাম করে এলাকার বেশ কিছু মানুষে কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আমরা তার সন্ধান জানতাম না। হঠাৎ করে গোপনে কোটচাঁদপুরে এলে সে অপহৃত হয়। পরে অপহরণকারীরা মুক্তিপন দাবী করে ফোন দিলে তিনি পুলিশের দারস্ত হন।

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি