শুরু হলো বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন

দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট আজ দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৫৩দিন পর চালু করা হয়েছে। কয়লা লোপাটের ঘটনায় কয়লার অভাবে গত ২২ জুলাই রাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন।

মাঝে ঈদুল আযহার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে কয়লা খনি থেকে আসা অল্প কিছু মজুত কয়লা দিয়ে ২০ থেকে ২৮ আগস্ট ৮দিন চালু ছিলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২য় ইউনিট।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার মুঠোফোনে জানান, ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি আজ দিবাগত রাত ২ টা ২৭ মিনিটে চালু করা হয়েছে। ওই সময়ে ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় গ্রীডে ইতিমধ্যে উৎপাদিত মেগাওয়াটটি যোগ করা হয়েছে। কয়লার মজুদ বাড়লে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট দুটি চালু করা হবে বলে তিনি জানান। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা মোট ৫২৫ মেগাওয়াট।

অপর দিকে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১৩১৪ নম্বর কোল ফেস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। কয়লা খনির তথ্য মতে এই নতুন ফেস থেকে প্রতিদিন কয়লা উত্তোলন হচ্ছে ২হাজার ৩শ থেকে ২হাজার ৫শ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য যে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা লোপাটের ঘটনার পর কোল ইয়ার্ড শুন্য হয়ে গেলে গত ২২জুলাই রাত ১০টা ২০মিনিটে বন্ধ হয়ে যায় পার্শবর্তী কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট। কয়লা গায়েবের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় খনির সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবউদ্দীন আহম্মদ, কোম্পনী সচিব আবুল কাশেম প্রধানিয়াসহ ১৯ কর্মকর্তাকে আসামী করা হয়। অপরদিকে মামলার নথী দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুর আঞ্চলিক শাখা থেকে কেন্দ্রীয় দুদকের কর্যালয়ে পাঠানো হয়। ৫২৫ মেগাওয়ার্ট সম্পন্ন তাপ বিদ্যু কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার বিদ্যুতের কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

 

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি