লোকাল বাসে চেপে বাসায় ফিরেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম

একজন সাধারণ যাত্রীর মতো অফিস শেষ করে লোকাল বাসে চেপে বাসায় ফিরেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয় থেকে বের হয়ে ৬ নম্বর বাসে করে গুলশানের বাসায় গেছেন তিনি। পুলিশ প্রটোকল ছাড়াই সচিবালয় থেকে বের হয়ে পুরানা পল্টন থেকে বাসে উঠে যানজট, ধুলোবালি, শব্দ দূষণের মতো যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে গুলশানের বাসায় ফেরেন প্রতিমন্ত্রী।

একজন প্রতিমন্ত্রী বাসে করে ফেরায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ওই বাসে থাকা যাত্রী, চালক ও তার সহকারীরা। এ সময় যাত্রীরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলেছেন, দিয়েছেন বাহবাও। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন একজন এপিএস এবং পিও।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান, অফিস শেষে বুধবার দুপুরে জিপিও মোড় থেকে ৬ নম্বর বাসে করে গুলশানের বাসায় ফিরেছেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বাসে করে ফেরায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ওই বাসে থাকা যাত্রী, চালক ও তার সহকারীরা। এ সময় যাত্রীরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলেছেন।

একেক জন ১৫টাকা করে ভাড়া দিয়েছি, তারা ভাড়া নিতে চায়নি, বলেছি সাধারণ মানুষের মতোই ভাড়া দেবো, বলেন তারানা হালিম।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কীভাবে বাসে যাতায়াত করেন এবং গণপরিবহনের অবস্থা কেমন- তা জানতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাধারণ যাত্রীরা একজন প্রতিমন্ত্রীকে বাসে দেখে খুবই খুশি হয়েছেন।

পুরানা পল্টনে বাসে ওঠার সময় এবং বাসে উঠে প্রতিমন্ত্রীকে চিনতে পেরে যাত্রীদের অনেকেই সেলফি তোলেন এক সময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর সঙ্গে। তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছেন তার সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, পুরানা পল্টন থেকে ঢাকার বহুল ব্যবহৃত ‘৬ নম্বর’ বাসটি তেজগাঁও হয়ে গুলশান-১ নম্বরে যায়। সেখান থেকে হেঁটে বাসায় ফেরেন প্রতিমন্ত্রী।

তারানা হালিম বলেন, বাসের যাত্রীরা সবাই খুশি হয়েছেন। তারা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি আমি বাসে উঠবো। আমি সাধারণ যাত্রীদের উচ্ছ্বাস দেখে খুশি হয়েছি, আমারও খুব ভালো লেগেছে।

তিনি বলেন, বাসে উঠে দেখলাম উপরে (ছাদের অংশে) কেটে বাতাস প্রবেশের জন্য ভেন্টিলেটর তৈরি করা হয়েছে। আমি বললাম এটা মাথায় পড়ে কেটে যেতে পারে। তারা বললো ঠিক করে দেবে।

তারানা হালিম আরো বলেন, বাসের সিটের কাভারগুলো তেল চিটচিটে ছিল। আমি বললাম এগুলো হাতে এবং নখে থাকলে কোনো খাবার খেলে তো অসুস্থ হয়ে যাবে মানুষ। কাভারগুলো পরিষ্কার বা পরিবর্তন করে দিতে বললাম, তারা বললো পরিষ্কার করবেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমার কোনো চিন্তা ছিল না।

‘বাসে ওঠার সময় আমাকে চিনতে পেরে চালক বললো আপা, পুলিশ ছাড়াই উঠবেন? আমি বললাম হ্যাঁ। তারা বললো আপা আমরাই তো আপনার প্রটেকশন, ওঠেন’।

সাধারণ মানুষ একজন প্রতিমন্ত্রীর বাসে ওঠার বিষয়টি ভালোভাবে নিয়েছেন, এখন থেকে প্রায় প্রতিদিনই বাসে যাতায়াত করবো, বাসায় ফিরে মোবাইল ফোনে বলেন তারানা হালিম।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের একটা অভিযোগ থাকে এমপি- মন্ত্রীরা সড়ক পথের যানজট দেখেন না। তারানা বলেন, তারা আসা করেন এমপি-মন্ত্রীরা একবার হলেও তাদের সঙ্গে সাধারণ যাত্রীর মতো গণপরিবহনে চলাচল করবেন। সেখান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘সাধারণ জনগণ যদি প্রতিদিন কষ্ট করে তাদের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারেন তবে আমরা কেন পারবনা। আমরা সবাই মানুষ। মানুষের কষ্টগুলো কাছ থেকে দেখতেই এমন সিদ্ধান্ত’।