মুসলমান ছাত্রলীগ নেতার জন্মদিন পালিত হল ফরিদপুরের এক হিন্দু শিবমন্দিরে!

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জন্মদিন উদযাপিত হলো ফরিদপুর জেলা সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল পরানপুরের এক শিব মন্দিরে। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই জন্মদিন পালন করা হয়। আশ্চর্যজনক হলেও এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটলো।

মুসলমান ছাত্রলীগ নেতার জন্মদিন পালিত হল ফরিদপুরের এক হিন্দু শিবমন্দিরে!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,ঐ মন্দিরের নাম পরানপুর সার্বজনীন শিব মন্দির। প্রায় দু’শো বছরের এই পুরনো মন্দির টি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিএনপি আমলে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি শেখ স্বাধীন মোঃ শাহেদ মন্দিরটি সম্পূর্ণ নতুন ভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এই কাজকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অবগত হয়েই অনুমতি প্রদান করেন। কাজটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল ভূইয়া তানভীর।

কেন মন্দিরে একজন ছাত্রনেতা জন্মদিন পালন করা হল এমন প্রশ্নের জবাবে মন্দিরের সভাপতি কৃষক নীলকমল প্রামাণিক বলেন, “দু’শো বছরের পুরনো মন্দির এতদিন এত জীর্ণদশা কারো চোঁখে পড়লো না! এখন আমার যে ছাত্র ভাইয়েরা নিজ ইচ্ছায় এটাকে উপাসনার উপযোগী করছে,তাদের জন্য এই মন্দিরে প্রার্থনা করব না তো কোথায় করব?ওরা লাখ টাকা দিয়ে আমাদের মন্দির টা করে দিচ্ছে,তাদের জন্য আমরা একহাজার টাকা সব হিন্দুরা দিতে পারব না?”

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কাঠমিস্ত্রি রণজিৎ রায় বলেন, তিনি তার ছেলের কাছ থেকে গোলাম রাব্বানীর জন্মদিন সম্পর্কে জানতে পারেন আজ সকালে। তার ছেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে বিষয়টি জানতে পারে। রণজিৎ রায় বলেন, ” আমরা রাব্বানী ভাই কে চিনিনা। আমরা শাহেদ ভাইকে চিনি। সকালে যখন আমার ছেলের কাছ থেকে জানতে পারলাম শাহেদ ভাইয়ের যে বড়ভাই আজ তার জন্মদিন। শাহেদ ভাই যদি এমন মহৎ প্রাণের হন তাহলে তার বড় ভাই অবশ্যই তারচেয়েও ঢের মহান।আমরা এমন একজন মহৎ ব্যক্তির জন্মদিন পালন করতে পেরে আনন্দিত ।

স্থানীয় হিন্দু সমাজের সমাজপতি সাধু অনিল বিশ্বাস বলেন ” দুপুরে আমাকে রণজিৎ বিষয় টি জানায়। জেনেই আমি সমাজের সব হিন্দুকে মন্দির স্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি ছেলেটিকে আশির্বাদ করছি”।

৯০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ বিমল বিশ্বাস বলেন “যতন-রতন-মকন্ত-নীল কমল এই চার পুরুষের এই মন্দির। কত চড়াই উতরাই গেছে। এতকাল পর যাদের কৃপায় মন্দিরটি হচ্ছে তাদের বড়ভাইয়ের প্রতি স্নেহ থেকেই আমরা আজ কেক কাটলাম আর প্রার্থনা করলাম। ভগবান ওদের ভাল করবেন”।

এ প্রসঙ্গে মন্দিরের প্রধান উদ্যোক্তা শেখ স্বাধীন মোঃ শাহেদ বলেন “আমি সন্ধ্যার পর বিষয়টি জেনে পুলকিত হয়েছি। একেবারে সীমান্তবর্তী খেটে খাওয়া মানুষের মনেও যে ছাত্রলীগের জন্য ভালবাসা তৈরি হয়েছে,আজকের অনুষ্ঠান তারই প্রমাণ। আমি গর্বিত যে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে আমি প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পরিচিত করতে পেরেছি। বিশেষ করে বয়োজ্যৈষ্ঠ যারা একসময় ছাত্রলীগের নাম শুনলেই হয় ভয় পেত,নাহয় ঘেন্না করত। আমাদের পজিটিভ কাজের কারণে ছাত্রলীগ আজ আশির্বাদ পাচ্ছে”।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরানপুর,সুলতানপুর,কেষ্টনগর,খালিশাসহ আশেপাঁশের প্রায় ৮ গ্রামের দুই শতাধিক হিন্দু উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটার পর সবাই গোলাম রাব্বানীর দীর্ঘায়ু এবং সফলতা কামনা করে প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী প্রার্থনা করেন। প্রার্থনায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সকলেই অংশগ্রহণ করে। প্রার্থনা শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পার্শবর্তী রাজবাড়ি জেলার শ্রী মধুসূদন দূর্গাপুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নরেন বিশ্বাস,রফিউদ্দিন প্রি ক্যাডেট একাডেমীর অধ্যক্ষ শ্রী সুব্রত বৈদ্য,পার্শবর্তি কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু অনন্ত মন্ডল,পরানপুর বাহাউদ্দিন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের সভাপতি আকিদুল ইসলামসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি