দাফন করার ১১দিন পর জীবিত লাশ উদ্ধার

স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায় স্বামী, বাকরুদ্ধ ছয় বছরের শিশু সন্তানের চোখে অন্ধকারের কালো আবরন। ১৫ দিন শ্বাসরুদ্ধকর পারিবারিক টানাপোড়েনের অবসান হয় পলিথিনে মোড়ানো গলা কাটা লাশ পেয়ে। সনাক্ত করেন বাবা তার মেয়েকে। হত্যা মামলা দায়েরের পর মেয়ের লাশ নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করেন। তার ১১ দিন পর সেই মেয়েকে পুলিশ জীবিত উদ্ধার করায় এলাকায় তোড়পাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনা যশোরের চৌগাছা থানায়। নয়ড়া গ্রামের আমজেদ আলীর মেয়ে সাথীর সঙ্গে একই থানা এলাকার চাঁদপাড়া গ্রামের মোস্তফার বিয়ে হয় আট বছর আগে। এর দুই বছর পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় ছেলে এহসান। গত ১৪ জুলাই সাথী স্বামীর বাড়ি থেকে বাইরে গিয়ে নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খুঁজে যখন পরিবারের সদস্যরা ক্লান্ত তখন গত ২৯ আগস্ট রাতে যশোরে সরকারি সিটি কলেজ এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ৩০ আগস্ট আমজেদ আলী লাশটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়। এরপর সেই লাশ নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়। গতকাল ০৯ সেপ্টেম্বর যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে স্বামীর প্রতিবেশি মান্নুর ধর্মপিতা সদর উপজেলার জলকর গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে সাথীকে উদ্ধার করেন। মান্নুর সঙ্গে পরকীয়ার কারনে সাথী পালিয়ে গিয়ে উক্ত বাড়িতে অবস্থান করতেছিলেন বলে স্বীকার করেছে।

আর পুলিশ ও এলাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিতেই এই হত্যা মামলার নাটকের স্ক্রিপ্ট সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সাথী। পলিথিনে মোড়ানো গলাকাটা লাশটির পরিচয় উদঘাটনে চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশের বুদ্ধিমত্তায় উদঘাটিত হয়েছে গৃহবধু সাথী নিখোঁজের মূল রহস্য। যশোরে গতকাল থেকে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছে এই ঘটনাটি।