আখাউড়া থেকে আগরতলা ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের উদ্বোধন আজ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হবে আজ। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে এ কাজের উদ্বোধন করবেন।

এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে সেকশনের পুনর্বাসন কাজেরও উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন ও কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফরমে পৃথক সুধি সমাবেশের আয়োজন করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থের যোগান দিচ্ছে ভারত।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ মোট ১৫ কিলোমিটার। এরমধ্যে আগরতলা অংশে পাঁচ কিলোমিটার আর বাকি ১০ কিলোমিটার আখাউড়া অংশে। রেলপথটি আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে শেষ হবে।

গত ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই আগরতালায় এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। আগরতলা অংশের পাঁচ কিলোমিটারের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শেষে নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে। এ রেলপথ চালু হলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের রেল যোগযোগ আরও সুগম হবে।

এছাড়া আখাউড়া-আগরতলার মাত্র ১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মত হলে ত্রিপুরার সঙ্গে কোলকাতার দূরত্ব ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার থেকে কমে দাঁড়াবে ৫১৫ কিলোমিটার।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কাজী মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, আখাউড়ার ১০ কিলোমিটার অংশের জন্য জমি অধিগ্রহণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ডুয়েল গেজ রেলপথের কারণে শুধু ভারতই নয়, বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটনে সুবিধা হবে।