ভিক্ষুকের জন্য তোলা ফান্ড দিয়ে বিএমডব্লিউ কিনে বিপাকে দম্পতি!

ফিলাডেলফিয়ার রাস্তায় বিপদে পরে এক ভিক্ষুকের সাথে পরিচয় হয় এক দম্পতির। সেই ভিক্ষুককে সাহায্য করতে গিয়ে তারই ৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় আড়াই কোটি) হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দম্পতির বিরুদ্ধে। ভিক্ষুক ব্যক্তির সততায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাকে সাহায্য করার জন্য ৪ লাখ ডলার (৩ কোটি ৩২ লাখ) ফান্ডের ব্যবস্থা করেছিলেন ওই যুগল।

পরিশেষে নষ্ট হয়ে গেল সুন্দর একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আর অন্য প্রায় সব সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার গল্পের মতোই এর পিছনেও সেই অর্থই অনর্থের মূল।

বিপদের দিনের বন্ধু, গৃহহীন, নিঃস্ব জনির সাহায্যে এগিয়ে আসেন দম্পতি। তার নতুন বাড়ি, গাড়ি এবং চাকরির ব্যবস্থা করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গো ফান্ড মি’ সাইট খুলে অনলাইনে জনির জন্য সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। ১৪০০০ মানুষের পাঠানো সাহায্যে চার লাখ মার্কিন ডলার উঠেছিল ওই অনলাইন ফান্ডে।

বিপদ আসে তারপরই। জনির অভিযোগ ছিল, ওই অর্থ দিয়ে বিএমডব্লুিউ কিনে বাকিটা পকেটস্থ করেছেন মার্ক-ক্যাটলিন। অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের পাল্টা অভিযোগ, মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই অর্থের ২৫০০০ ডলার মাদকের পিছনে এবং দেনা মেটাতে খরচ করে ফেলেন জনি। বাকি অর্থ পরিবারকে পাঠিয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত বিবাদ গড়ায় আদালতে। গত বুধবার নিউজার্সির এক আদালতে জনির আইনজীবী অভিযোগ করেন, জনি মাত্র ৭৫০০০ ডলার এবং ১৯৯৯ সালের একটি ফোর্ড রেঞ্জার গাড়ি ছাড়া কিছুই পাননি।

মার্ক-ক্যাটলিনের আইনজীবীর পাল্টা দাবি জনিকে দু’‌লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক। বৃহস্পতিবারই তদন্তে নেমে পুলিশ মার্ক-ক্যাটলিনের বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করে। এরপর তাদের নিউজার্সির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের নতুন কেনা বিএমডব্লুিউ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়।

তবে বার্লিংটন কাউন্টি প্রসিকিউটরের অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, যেহেতু এই ঘটনাটির সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে তাই এখনই তারা কোনও চার্জ গঠন করেনি। তবে তদন্ত চলছে। জনির অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দোষীরা রেহাই পাবে না।  ‌‌