সাধারণ জনগণের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের কক্ষ!

সপ্তাহের প্রতি বুধবার সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের কক্ষটি। দিনের বেশ খানিকটা সময় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের নানাবিধ সমস্যার কথা জানান।

“মানুষের মধ্যে মানবিকতা নাই। মানবিকতা হারিয়ে গেছে। কেউ আজ আর মানুষ নয়; এমন অনেক কথা সমাজে বলা হলেও আমরা যারা এই কথাগুলো বলে থাকি তারাই কিন্তু বুলি আউড়াই, কেউ এগিয়ে আসি না”। মানবতা এখনো আছে; তার বড় ধরণের পরিচয় দিলেন ফরিপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) উম্মে সালমা তানজিয়া।

গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২ টার দিকে শহরের পূর্বখাবাসপুর এলাকার জামিলা বেগম তার গলার দূরারোগ্য ব্যধি নিয়ে আসেন কিছু আর্থিক সহায়তার জন্য। জেলা প্রশাসক জামিলাকে দেখে তাকে বলেন, আপনার তো দ্রুত চিকিৎসা করা দরকার। জামিলাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে তিনি ক্ষান্ত হননি খবরাখবর নিয়েছেন এবং জানতে পেরেছেন গলায় ক্যন্সার আক্রান্ত যার চিকিৎসা ফরিদপুরে সম্ভব নয়। আজ সকালে জেলা প্রশাসক জামিলা কে আবার তার অফিসে নিয়ে আসেন আর্থিক সহায়তা দেন এবং ঢাকায় তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বিশেষায়িত ৫ বছরের শিশু রাব্বি যখন তার মায়ের কোলে আসে জেলা প্রশাসকের সামনে তখন যেন তার চোখ দুটি ছলছল করে উঠল । জন্মগত রাব্বির হাত পা বাকা, হাঁটা চলা করতে পারে না। তিনি এক মূহুর্ত না ভেবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দিয়ে ঢাকায় পাঠালেন। আজ চিকিৎসা শেষে শিশু রাব্বি বেশ সুস্থ। তাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরলেন মমতামইয়ি জেলা প্রশাসক। নিজ হাতে রাব্বিকে কৃত্তিম চিকিৎসা উপকরণ পরিয়ে দিলেন।

প্রতিনিয়ত এমন শতশত ঘটনা যিনি ঘটিয়ে চলেছেন তিনি আর কেউ নন শিক্ষা ও জনসেবায় দেশসেরা জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। যিনি ইতিমধ্যে তার সততা, জনসেবা ও নানামূখি উদ্ভাবনি উদ্যোগের মাধ্যমে জনবান্ধব প্রশাসন গঠনের মাধ্যমে জনগণের মনি কোঠায় অবস্থান করছেন , প্রশংসিত হচ্ছেন সর্ব মহলে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি