আপনারা যা খুশি করেন, যা ইচ্ছা সাজা দেনঃ খালেদা জিয়া

দুর্নীতি মামলার বিচারের জন্য আজ অস্থায়ী আদালত বসানো হয়েছে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গতকাল পুরনো কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

এ উপলক্ষে কারাগারের আশপাশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরাতন কারাগারের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে আশপাশের দোকানপাটও। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বুধবার কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার ৭ নম্বর কক্ষে নতুন এই এজলাসে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। তবে আজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবী।

এদিন, খালেদা জিয়া আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যা খুশি করেন, যা ইচ্ছা সাজা দেন।

এদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার দু’বছর আগে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ওই দিন থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।