হসপিটালে বিল দেখে ১৬ দিনের ছেলে শিশুকে ফেলে চলে গেছে মা-বাবা!

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলার সিবিক স্কয়ারে অবস্থিত কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে ২ লক্ষ টাকা বিল দেখে ১৬ দিনের ছেলে শিশুকে ফেলে চলে গেছে মা-বাবা। এঘটনাটি নগরীজুড়ে টক অব দি টাউনে পরিণত হয়েছে। এঘটনায় শিশুটির মা-বাবার মানবিকতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি হাসপাতালের এত বর্ধিত বিল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেয়া অপেক্ষাকৃত কম ওজনের সন্তানকে বাঁচাতে কুমিল্লায় নিয়ে আসেন চাঁদপুরের শাহ আলম ও রোকেয়া দম্পতি। কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ঘুরে পরে নবজাতককে ভর্তি করেন নগরীর ঝাউতলার সিভিক স্কয়ারের কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে। এ ঘটনা গত ১৮ আগস্টের।

বিষয়টি এখন গড়িয়েছে পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন পর্যন্ত। হাসপাতালের এনআইসিইউ বিল তো দূরের কথা এখন নবজাতক নিয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এর আগে তাদের তিনটি সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার পূর্বেই নষ্ট হয়েছে। মা-বাবা লাপাত্তা হওয়ার পর তাদের মুঠোফোনে কল দিয়ে মুঠোফোন সংযোগে না পেয়ে থানায় জিডি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাসপাতালের এত বর্ধিত ফি না দিতে পেরেই পালিয়ে গেছে শিশুটির মা-বাবা।

হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বদিউল জানান, ১৮ তারিখ থেকে অদ্য পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ বিল হয়েছে। শিশুটির মা-বাবার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মুঠোফোনটিও বন্ধ। শিশুটি এনআইসিইউতে রয়েছে। কোতয়ালী থানায় জিডি করেছি।

এত বিল হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এনআইসিইউতে অক্সিজেন সরবরাহ, মেডিসিন, সার্ভিস চার্জ, চিকিৎসক দেখছে। তাই এত বিল আসছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট নির্ধারিত সময়ের আগেই ৭০০ গ্রাম ওজনের ছেলে নবজাতক নিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা গ্রামের শাহ আলম ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলার ‘কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড’ হাসপাতালে আসেন। ডাক্তাররা তাৎক্ষণিক ওই শিশুর জীবন বাঁচাতে তাকে ওই হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) রাখার ব্যবস্থা করেন। এর আগেও ওই দম্পতির ৩টি বাচ্চা জন্মের পর মারা যায় বলে ডাক্তাররা জানান।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান জানান, আমি শুনেছি বিষয়টি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় জিডি করেছে। যদি শিশুটির মা-বাবা না আসে তাহলে আদালতের মাধ্যমে কেউ নিতে চাইলে শিশুটিকে নিতে পারবে লালনপালনের জন্য।

হাসপাতালের কর্মকর্তা ও ডাক্তাররা জানান, নবজাতকের চিকিৎসায় ইতিবাচকভাবে সবকিছু চলছিল, চিকিৎসায় বেশ আরোগ্যও হয় শিশুটির। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় বিল নিয়ে। ৬ষ্ঠ দিনে নবজাতকের চিকিৎসার বিলের পরিমাণ ওই দম্পতিকে জানানো হয়। টাকার অঙ্কে ৬ দিনে দুই লাখ টাকা বিল হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর জানান, বিষয়টি এখন শুনলাম মাত্র। খোঁজ নিয়ে দেখছি