বান্দরবানের নাফাখুমে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়

নদী পাহাড় আর ঝর্না দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখন ভীড় করছে বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের নাফাখুমে। জেলা শহরে নেমে চাঁদের গাড়ী নিয়ে তিন ঘন্টা পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে যাচ্ছে বান্দরবান থেকে ৮০ কিলোমিটার দুরে থানচি উপজেলায়। সেখান থেকে বোটে চড়ে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রেমাক্রী।

পাহাড়ী পল্লীতে রাত্রিযাপন শেষে পরদিন ৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে পাড়ি দিয়ে চলে যাচ্ছে বাংলার নায়েগ্রা খ্যাত নাফাখুম ঝর্নায়। রোমাঞ্চকর এ যাত্রায় দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত পর্যটকরা নাফাখুমের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত আর মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় সব ক্লান্তি। ঝর্নায় গোসল করে তারা আবার সতেজ প্রাণবন্ত হয়ে যায়। তবে বর্ষাকাল হওয়ায় নদীতে পানি থাকায় এখন পায়ে হাটার কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে। বোটে চড়ে বেশীরভাগ অংশই পাড়ি দেয়া যায়। শীতকালে সাঙ্গু নদীতে পানি শুকিয়ে যায় তাই পায়ে হেটে যেতে হয় পুরোটা পথ। তাই নাফাখুম যাওয়ার জন্য বর্ষাকালকেই বেছে নিচ্ছে পর্যটকরা। হাটার কষ্ট কম হওয়ায় নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধরাও ছুটে যাচ্ছে নাফাখুমের সৌন্দর্য্য দেখতে।

ঢাকা থেকে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা পর্যটক সোনিয়া আক্তার বলেন খুবই সুন্দর একটি জায়গা ।যাওয়ার পথে নদীর দুপাশের দৃশ্য গুলো অসাধারন,আসতে একটু কষ্ট হলেও নাফাখুমের সৌন্দর্য্য দেখে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। এটার গল্প অনেক শুনছি কিন্তু বাস্তবে এটা তার চেয়েও সুন্দর। এখানে না আসলে সেটা কখনোই বুঝা সম্ভব নয়।

থানচি সদরে পৌছেঁ পুলিশের কাছে আইডি কার্ড দিয়ে নাম এট্রি করে পরে আবার বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে সেটা জমা দিয়ে বোট ভাড়া করে যাত্রা শুরু করতে হবে রেমাক্রীর উদ্দ্যেশে। তবে সবার আগে একজন গাইড নিতে হবে যে এসব কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। দূর্গম জায়গা হওয়ায় নিজের নিরাপত্তার জন্য গাইড অত্যাবশ্যক। থানচি সদর থেকে যাত্রা শুরু করে নদীর দুপাশের সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে দুই ঘন্টায় পৌছে যাবেন রেমাক্রীতে। সেখানে রেমাক্রী ফল্স এর সৌন্দর্য্য মুগ্ধ হওয়ার মত। যাত্রা শেষে গোসল করে সেখানে পাহাড়ীদের কটেজ রয়েছে হাজার টাকায় মিলবে থাকার জন্য রুম এবং খাবার হোটেলও আছে মুরগির মাংস ডাল আলু ভর্তা এসব পাওয়া যায়। দেড়শো টাকায় মিলবে একজনের খাবার। দূর্গম জায়গায় এমন খাবার পাওয়ায় খুশি পর্যটকরাও।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবুল কাশেম বলেন এখানে অল্প টাকায় থাকার খুব সুন্দর ব্যবস্থা আর খাবার গুলো খুব সুস্বাদু এতো দুরে এসে এত ভাল খাবার পাবো চিন্তাও করিনি। খাবারের দামও অনেক কম। তবে থাকার জায়গা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সরকারীভাবে যদি আরো কিছু কটেজ করা হয় তাহলে আরো ভালো হত। কারন দিন দিন এখানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা আর কর্মজীবনের ক্লান্তি ভুলতে ছুটির দিনে মানুষ ছুটে যাচ্ছে পাহাড় আর ঝর্ণার সৌন্দর্য্য দেখতে। মোবাইল নেট না থাকায় প্রাত্যহিক জীবনের কারো সাথে যোগাযোগও থাকবে না নিশ্চিন্ত মনে উপভোগ করা যায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

পর্যটক পেয়ে খুশি সেখানকার ব্যবসীয়ীরাও রেমাক্রী বাজারের ব্যবসায়ী লালপিয়াম বম বলেন পর্যটকের আনা গোনা আগের চেয়ে বেড়েছে থাকার জায়গা দিয়ে সংকুলান করতে পারছি না। আগে তেমন আসতো না তবে এখন আসাতে আমাদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে। চেষ্টা করছি আরো কিছু কটেজ করার যাতে পর্যটকরা আরামে থাকতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কোন কারন নেই। বিজিবির পক্ষ থেকে রয়েছে সতর্ক নজরদারী। রয়েছে মোবাইল টহলও। আর পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কোথাও কোন পর্যটক হয়রানির শিকার হলে তাতক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য টুরিষ্ট পুলিশের ভ্রাম্যমান টিম রয়েছে। এছাড়াও থানচির পর্যটকদের জন্য পুলিশের কাছে নাম এন্ট্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে কোথাও কোন পর্যটক মিসিং হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা যায়।

 

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি