পুরো মন্ত্রনালয়ই এখন অনিয়ম ও দূর্নিতির কেন্দ্রঃ আনু মুহাম্মদ

আজ ২৬ আগস্ট সকালে দিনাজপুর ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবসে সাংবাদিকদের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, কেন্দ্রিয় ভাবে আমরা কর্মসূচী করে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা লোপাটের সাথে মন্ত্রি-উপদেষ্টারাও জড়িত। তাদেরও বিচার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, তদন্তের নামে অতীতের মত যদি কয়লা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে জাতীয় কমিটি গনআন্দোলনের মাধ্যমে প্রকৃত দোষিদের চিহিৃত করা হবে।

দিনাজপুরে বিক্ষোভ, র‌্যালী ও সমাবেশসহ নানা আয়োজনে আজ পালিত হচ্ছে ১২তম ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস।
দিনটি উদ্যাপন উপলক্ষে ফুলবাড়ী উপজেলায় সকাল থেকেই ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এবং কালোব্যাচ ধারন, শোক র‌্যালী, শহীদ স্মৃতি সৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ফুলবাড়ী ট্রাজেডির ১২তম বার্ষিকী। দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ী বাজার থেকে সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে শোকর‌্যালী বের করে ফুলবাড়ীবাসী। র‌্যালীটি শহরের ঢাকা মোড় হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২০০৬ সালের নিহতদের শহীদ স্মৃতিস্তমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পন ও শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। শপথবাক্য পাঠে নেতৃত্বদেন ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতা ও ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক।

এদিকে সকাল ১০ টায় নিমতলা মোড় থেকে একটি শোকর‌্যালী বের করে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা। পরে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পন করে নিমতলা মোড়ে একটি প্রতিবাদী জনসভা করেন। র‌্যালী ও সমাবেশে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশী কোম্পানী এশিয়া এনার্জীকে ফুলবাড়ী থেকে প্রত্যাহারের দাবীতে সকাল থেকেই ফুলবাড়ীর ঢাকা মোড়ে ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে। দুপুর ২টার দিকে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ও ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিমতলা মোড়ের দিকে এগুতে থাকলে প্রথমে পুলিশ বাধা প্রদান করে। পুলিশের বাধা পেয়ে বিশাল মিছিলটি জঙ্গী রূপ নেয়।

পুলিশ-বিডিআর-এর বেড়িকেট ভেঙ্গে মিছিলটি এগুতে থাকলে আন্দোলনকারীদের উপর টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। বিডিআরের গুলিতে এসময় নিহত হয় আল আমিন, সালেকীন ও তরিকুল। আহত হয় ২ শতাধিক আন্দোলনকারী জনতা। এরপর ফুলবাড়ীবাসী ধর্মঘটের মাধ্যমে এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। বাধ্য হয়ে তৎকালীন সরকার ফুলবাড়ীবাসীর সাথে এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিস্কার, দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যাবে নাসহ ৬ দফা চুক্তি করলে এলাকাবাসী ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি