ধস নেমেছে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে

ধস নেমেছে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে। ঈদের আগে সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে চামড়ার দাম আগের বারের চেয়েও কম নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোরবানির পর সেই দরও ঠিক থাকেনি।

এবার সারা দেশে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা হয়েছে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়েও কম দরে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কয়েক লাখ মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়ার ব্যবসায় নামেন। কয়েক হাজার পাইকারি ব্যবসায়ী তাঁদের কাছ থেকে চামড়া কিনে জমা রাখেন আড়ৎদারদের কাছে। এবারের ঈদে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে কম দামে চামড়া কিনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এক লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ১ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়নি এবার। অথচ তিন-চার বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়াই কেনাবেচা হতো ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

রাজধানীর কাঁচা চামড়ার পাইকারি আড়ত লালবাগ ও আমিনবাজারে ঈদের দিন ও তার পরের দিন কম দামে চামড়া বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম হচ্ছে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়েও কম দামে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে কোরবানির দিন ও তার পরের দিন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর ঢাকার বাইরে কেনাবেচা হয়েছে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। অথচ লবণ দেওয়ার পরে কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনাবেচা হওয়ার কথা।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে সারা দেশ থেকে কমবেশি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। তবে বছরের মোট জোগানের অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। গতকাল ঢাকার সাভারে চামড়া শিল্প নগরের প্রায় সব কারখানা বন্ধ ছিল। কয়েকটি কারখানায় লবণযুক্ত চামড়া সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক কারখানায় ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন গবাদিপশুর চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। তবে সাভারে চামড়া শিল্পনগরে শ্রমিকের সংকট রয়েছে বলেও জানা গেছে। নানা সমস্যার কারণে শ্রমিকেরা এখানে কাজ করতে চান না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিক ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন সাভারের কারখানায় গবাদিপশুর চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেননি। চামড়ায় লবণ দিয়ে হাজারীবাগসহ সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থানে জমা করে রাখা হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তা সাভারে আনা হবে বলে জানা যায়। পরে এসব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

তবে গতকাল শুক্রবার থেকে দাম একটু বাড়ছে বলেও জানা গেছে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here