গণহত্যার বিচারের দাবিতে লাখো রোহিঙ্গার বিক্ষোভ মিছিল

আজ শনিবার সকাল থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেখানকার সেনাবাহিনী কর্তৃক গণহত্যার বিচার দাবি করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে এই  বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।

আজ সকাল সাড়ে নয়টায় কক্সবাজার শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের ওপর বসে শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে। তাদের মূল দাবি ছিল ২৫ আগস্ট দিনটিকে বিশ্বব্যাপী ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা। তারপর রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, রাখাইন রাজ্যে গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার, রাখাইনে ফেলে আসা জায়গা-জমি, ধনসম্পদ ফেরত, ক্ষতিপূরণ আদায়সহ নাগরিক অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও স্থানীয় লোকজন মিলে সেখানকার আদিবাসী রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন ও দমনপীড়ন শুরু করে। হত্যা করে ২৩ হাজার রোহিঙ্গাকে। অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ১৮ হাজার নারীকে ধর্ষণ করে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করে। গত এক বছরেও এই গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের বিচার হয়নি। তাই বিচারের দাবিতে রোহিঙ্গারা আজ মাঠে নামে বলে জানা যায়।

সকাল ১০টার দিকে কুতুপালং আশ্রয় শিবিরের ই ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার নারী-পুরুষ মাটিতে বসে গণহত্যা দিবসটি পালন করছেন। তাঁদের হাতে লেখা একটি পোস্টারে সবার নজর। সাদা কাগজের মধ্যভাগে চারটি হাত সম্প্রীতির চিহ্ন তুলে ধরছে। এসব হাত আঁকা কালো কালিতে। চারটি হাতের ওপরেরটিতে ইংরেজিতে লেখা আছে ‘জাস্টিস’। নিচের হাতে আছে ‘রাইটস’। আর বাঁ-পাশের হাতে লেখা ‘রোহিঙ্গা’। ডান হাতে ‘ব্যাক হোম’। বেলা ১১টায় উখিয়ার মধুরছড়া আশ্রয় শিবিরের ই-১ ব্লকেও দেখা গেছে, কয়েকশ রোহিঙ্গা বিক্ষোভ মিছিল করে গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। মিছিল থেকে মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির বিরুদ্ধে বিতর্কিত স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল।

গণহত্যার বিচারের দাবিতে লাখো রোহিঙ্গার বিক্ষোভ মিছিল

মধুরছড়ার পাশে লম্বাশিয়া, বালুখালী, ময়নারঘোনা, বার্মাপাড়া, হাকিমপাড়া আশ্রয় শিবিরেও রোহিঙ্গারা গণহত্যা দিবস পালন করে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। তবে এই বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের পেছনে কারা সহযোগিতা দিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।