জাবি ছাত্রলীগের ৪ নেতার বরিুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভাংচুরের অভিযোগ

অস্ত্রের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক ছাত্রদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র দিয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা।

অভিযোগ পত্র অনুযায়ী, আজ ১৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ইসমাইল ইবনে ওয়ালি তন্ময় (রসায়ন ৩৯) ও শাহাদাত হোসেন ( ইংরেজি ৪১ ) এর মালিকানাধীন ‘রিভারল্যান্ড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস’ এর অফিসে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগের চার নেতা। পরে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের কে মারধর করে ও অফিস ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

অভিযুক্তরা হলেন শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নীলাদ্রী শেখর মজুমদার ও মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী।

অভিযুক্ত তারেক হাসান বলেন,‘এই ধরনের কোন ঘটনায় আমি ছিলাম না, যদি তারা প্রমাণ দেখাতে পারে তবে অভিযোগ করুক।’

আরেক অভিযুক্ত অভিষেক মন্ডল বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধংস করার পায়ঁতারা ছাড়া আর কিছু নয়।’

যোগাযোগ করা হলে নীলাদ্রি শেখর মজুমদার অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। রবিউল ইসলাম বলেন,‘এই অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসমাইল ইবনে ওয়ালি তন্ময় ও শাহাদাত হোসেন শাওন বিশ্ববিদ্যালযের পার্শ্ববর্তী আম বাগান এলাকায় বসবাসের সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্রডব্যান্ড সার্ভিসের ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ফেব্রূয়ারি থেকে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন ও সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির আহমেদ লিটনের মধ্যস্থতায় কিছুদিনের জন্য চাঁদা দাবি বন্ধ থাকে। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট থেকে তারা আবার চাঁদা দাবি করে।

আজ (১৯ আগস্ট) ‘কথা দিয়ে কথা না রাখার’ কথা বলে এক পর্যায়ে অস্ত্রের মুখে চাঁদা দিতে বলে নতুবা মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে তাদের মারধর করে ও অফিস ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এই বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নি। আর এই জায়গা তো ক্যাম্পাসের বাইরের।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সিকদার মোঃ জুলকারনাঈন বলেন,‘ওরা তো এটা করতে পারে না। বোঝই তো বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি আমরা কেউ নেই এর মাঝে এগুলো করছে। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

রুদ্র আজাদ, জাবি প্রতিনিধি