আবারো শৈলকুপায় ঈদকে সামনে রেখে রমরমা জুয়ার আসর!

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় আবারো চলছে রমরমা জুয়ার আসর। পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাসানো হয়েছে জুয়ার বোর্ড। সম্প্রতি ঝিনাইদহের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) এ এসপি তারেক আল মেহেদী উপজেলার বিভিন্ন জুয়ার স্পটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় শেখপাড়া, রতিডাঙ্গা, মদনডাঙ্গা ও পৌর এলাকাসহ বেশ কিছু জুয়ার স্পট থেকে জুয়াড়ীদের ধরে জেল হাজতে প্রেরন করেন। এরপর থেকে উপজেলার সব জায়গায় জুয়ার বোর্ড বন্ধ হয়ে যায়। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রিবেনী ইউনিয়ন পরিষদের পিছনের মাঠে জুয়ার বোর্ড বসানো হয়েছে। বিকাল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত এই সব জুয়ার আসরে বিভিন্ন স্থান থেকে জুয়াড়ী আসে। মোটা অংকের হাতবদল হয় জুয়ার বোর্ডে।

জানা গেছে, এসব বোর্ড থেকে পুলিশ মাসোয়ারা নিচ্ছেন। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবাগত ওসি আয়ুবুর রহমান যোগদানের পর থেকে মাসোয়ারা নিয়ে এসব জুয়া খেলার অনুমোদন দিয়েছে। মথুড়াপুর গ্রামের দবির ও পদমদী গ্রামের হানিফ এ জুয়ার বোর্ড বসিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এছাড়া থানা সংলগ্ন সুইপার কলোনিতে বড় ধরনের জুয়ার আসর বসিয়েছে মালিপাড়া গ্রামের স্বপন কসাই এবং ভুমি অফিস সংলগ্ন পুরাতন কাপুড় হাটে জুয়ার বোর্ড বসিয়েছে মালিপাড়া গ্রামের রিপন। এদিকে জুয়াড়ীরা পরিষ্কার করেই বলছে তারা ওসি ও এসপি কে ম্যানেজ করেই এসব জুয়ার বোর্ড চালাচ্ছে।

অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে শৈলকুপা থানা পুলিশের আটক বানিজ্য চরমে উঠেছে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছাড়া হচ্ছে আটককৃতদের। প্রতিদিনই চলছে এসব ধরপাকড় বানিজ্য। থানার ৩জন এস আই ও এক এএসআই এর বিরুদ্ধে আটক বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানা থেকে যারা অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পাচ্ছেন তাদের মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়, মারপিটের ভয় দেখানো হয়, পেন্ডিং মামলায় চালান দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তবে এসবের মাঝেও অনেকে মোবাইল ফোনের অনেক তথ্য রেকর্ড করে রেখেছে। এসব অভিযোগ উঠেছে শৈলকুপা থানার এসআই মাহমুদ, মতিন, ব্রজেন ও এএস আই হুমায়ন এর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, রাতে আটক করে থানায় এনে দাবী করা হয় মোটা অংকের টাকা। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করে তাদের মারধর, মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। এছাড়া যারা টাকা দিতে পারে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সচেতন মহল জেনে গেলে টাকার বিনিময়ে নরমাল মামলায় চালান করে দেই। এসব ধড়পাকড় ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটক বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। থানার কিছু পুলিশের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগও উঠেছে।

এরই মাঝে খুব গোপনে সরিয়ে দেয়া হয়েছে এএসআই প্রলয় চক্রবর্তীকে। তাকে নড়াইল লোহাগড়া থানায় বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক তরুনীর সাথে শারিরীক সম্পর্কের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এছাড়া ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলাও হয়েছে এই এএসআই এর বিরুদ্ধে। নতুন কাজী ওসি আয়ুবুর রহমানের যোগদানের এক সপ্তাহ পর উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়নের ভগবানগর গ্রামের কপোত কপোতি উধাও হওয়ার ঘটনাকে পুজি করে অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে এসআই মতিনের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বেআইনি ভাবে মিমাংসা করে ধামাচাপা দেয়।

এছাড়া উপজেলা জুড়ে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সামগ্রীও। জেলাজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাঝেই এসব চলছে কিভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। শেখপাড়া ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম গাঁজা বিক্রির হাট বলে খ্যাত। এখান থেকে গাজা দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এসব গাজা বিক্রি ও ব্যবসার সাথে বকুল জোয়ার্দ্দার ও তার সিন্ডিকেট জড়িত। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এ সিন্ডকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তবে জামিনে এসে আবার তারা মাদক ব্যবসা শুরু করে। শেখপাড়া বাজারে ভরত এর বাড়িতে বাংলামদ বিক্রি করে। প্রতিদিন সন্ধারপর বসে বাংলামদের আসর। সেখানে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী নামে খ্যাত রুমি, ডাবলুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আসর বসায়।

এছাড়াও শেখপাড়া বাজারের ছোট শিপন, শান্তিডাঙ্গার মিজানুর রহমান, শেখপাড়ার কুদ্দুস মোল্লা, পদমদীর রঞ্জু, শ্যামল ও ফিরোজ বিভিন্ন ধরনের মাদক সামগ্রী কেনা-বেঁচার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পদমদী গ্রামের আতিয়ারের ছেলে শ্যামল মাদকের মহাজন হিসাবে পরিচিত। সে ইয়াবা এনে মুদি দোকানে রাখে। সেখান থেকে বিভিন্ন হাতবদল হয়। রামচন্দ্রপুরের সিরাজুলের ছেলে ফিরোজ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আয়ুবুর রহমান বলেন, মদনডাঙ্গা জুয়ার আসর বসে কিনা তা জানা নেই। এছাড়া মাদক কেনা-বেচার তথ্যও তার হাতে নেই। তবে এসব খতিয়ে দেখে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার শৈলকুপা সার্কেলের সিনিয়র এ এসপি তারেক আল মেহেদী বলেন, যেখানেই জুয়ার বোর্ড বসবে সেখানেই অভিযান চালানো হবে। জুয়া ও মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই বলেও তিনি জানান।

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি