খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে ছয়জনের মৃত্যু

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার স্বনির্ভর বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তিনজন। তবে নিহতরা সবাই ইউপিডিএফ-এর প্রসিত বিখাশ গ্রুপের সদস্য বলে জানা গেছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হতাহতদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন টিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, গ্রামবাসীদের নিয়ে ইউপিডিএফ আজ সকালে একটি সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার কথা ছিল। তার আগেই এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের অদূরে স্বনির্ভর বাজার ও আশপাশ এলাকায় আকস্মিকভাবে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ৬জন নিহত ও আরো ৩জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ইউপিডিএফ সমর্থক নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। তবে সকলের বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ হতাহতদের উদ্বার করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। এ সময় স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত পুলিশ বক্সেও গুলি লাগে।

ইউপিডিএফ এর জেলা সমন্বয়কারী মাইকেল চাকমা ঘটনার জন্য সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে। অবশ্য জনসংহতি সমিতি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নিহতদের মধ্যে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, যুগ্ম-সম্পাদক এলটন চাকমা ও মহালছড়ি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী জীতায়ন চাকমার পরিচয় জানা গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল, সমর বিকাশ চাকমা ও শখিধন চাকমার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা।

এ ঘটনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস-এমএন লারমা) দায়ী করেছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রচার ও প্রকাশনা সেলের প্রধান নিরন চাকমা।