দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো তিনদিন ব্যাপী মহাস্নান যাত্রা

ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য, ভক্তি প্রণাম আর উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের মহাত্রিপুরারী কৈলাশপতি শিবের ৪৪তম মহাস্নান যাত্রা। তিনদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ছিল দিনাজপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও দেশ-বিদেশের মানুষের সমাগম। অংশ নেয় লাখো ভক্ত ও পূর্ণার্থীরা।

শ্রাবন মাসের শেষ সোমবার, সনাতন ধর্মালম্বীদের মহাদেব কৈলাশপতি শিবের মহাস্নান যাত্রা। এই উপলক্ষ্যে দিনাজপুর শহরের আনন্দ সাগরস্থ শিব মন্দিরে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় এই অনুষ্ঠান। মহাস্নান যাত্রার আগের দিনে দিনাজপুর শহর হতে ৩২ মাইল উত্তরে পুনর্ভবা নদীর উত্তরমুখী প্রবাহিত স্রোত হতে জল সংগ্রহ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও পুর্ণাথীরা। ওই দিন বাদ্য বাজনা আর উৎসবের আমেজে দীর্ঘ ৩২ মাইল নগ্ন পদব্রজে (খালি পায়ে হেটে) ভক্ত ও পূর্ণাথীরা এই জল নিয়ে সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহর হয়ে রাতেই পৌছে দিনাজপুর শহর থেকে ৭ মাইল দুরে আত্রাই নদীর পাড়ে। পরের দিন ভোর থেকে সেখানে স্নান করে তারা আবার নগ্ন পদব্রজে এসে শহরের আনন্দ সাগরস্থ শিব মন্দিরে পৌছে। শিবমন্দিরের চারপাশে সাত পাক দিয়ে এই জল দিয়ে স্নান করায় কৈলাশপতি শিব মুর্র্তিকে।

এরপর সেখানে প্রসাদ গ্রহণ শেষে ভক্তবৃন্দ পূর্ণআত্মা নিয়ে ফিরে যায় নিজ গৃহে। এই স্নান যাত্রাকে কেন্দ্র করে শিবমন্দির প্রাঙ্গন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মেলায় পরিণত হয়। আর বিভিন্ন দোকানিরাও তাদের পসরা বসায় মন্দির প্রাঙ্গনে। বিশ্ব শান্তি কামনায় ১৯৭৪ সাল থেকে ৪৪ বছর ধরে এই অনুষ্ঠান চলে আসছে। মহাস্নান যাত্রা শুরু হয় শনিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও পূর্ণার্থীরা জানান, মনের বাসনা পুরন করতে এবং সকলের মঙ্গল কামনায় মহাস্নান যাত্রায় অংশ নিতে প্রতিবছর তারা এখানে আসেন তারা। তারা জানান, খুবই জাগ্রত এই মন্দির। সংসারের উন্নতি ও পূর্ণ অর্জন করতে তারা প্রতিবছরই এই মন্দিরে আসেন।

আয়োজকরা বললেন, দুর দুরান্ত থেকে এখানে লাখো দর্শনার্থী আসে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা আমরা পাই।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেদওয়ানুর রহিম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বেশ কিছু পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

যে যা-ই মনোবাসনা নিয়ে এই মহাস্নান যাত্রায় আসুক, সকলের মনোবাসনা যাতে পুরন হয় এবং বিশ্বে যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়-এমনটাই প্রত্যাশা দুর-দুরান্ত থেকে আগত ভক্ত ও পূর্ণার্থীদের।

 

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি