বাংলাদেশকে জিরো লাইনে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের সহায়তা বন্ধের অনুরোধ

মিয়ানমার সরকার সীমান্তের জিরো লাইন বা শূন্য রেখায় আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ প্রান্ত থেকে যেকোনো ধরনের মানবিক সহায়তা বন্ধের বিশেষ অনুরোধ করেছে। গতকাল ইয়াংগুনের বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় গতকালই প্রথম মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের রাখাইন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হকসহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কয়েকজন সদস্য। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল হেলিকপ্টারে করে গতকাল দুপুরের আগে সিত্তুয়ে থেকে মংডুর উদ্দেশ্যে রওনা করেন। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলক বর্মী বর্বরতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গার আদি বসবাসের স্থানসহ ওই এলাকার বিধ্বস্ত চিহ্নগুলো প্রত্যক্ষ করেন। তাদের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের প্রস্তুতি সরজমিন দেখানো হয়। সারা দিন সীমান্ত এলাকা এবং মংডুতে ঘুরে তারা বিকালে সিত্তুয়ে ফিরেন। রাতে তারা যান ইয়াংগুনে।

এরপর ইয়াংগুনের বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় সীমান্তের জিরো লাইন বা শূন্য রেখায় আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ প্রান্ত থেকে খাদ্য, পানীয়সহ যেকোনো ধরনের মানবিক সহায়তা বন্ধের বিশেষ অনুরোধ করেছে মিয়ানমার সরকার। একই সঙ্গে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাদের পরবর্তী সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জিরো লাইনে ৩৪ ও ৩৫ পিলারের মাঝামাঝিতে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের ওপর যৌথ সমীক্ষা চালানোর প্রস্তাবও দিয়েছে মিয়ানমার, যাতে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী যুদ্ধে পারস্পরিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের রাখাইনের মংডু টাউনশীপ এবং সীমান্ত এলাকায় নতুন করে তৈরি হতে থাকা বাড়িঘর এবং বসতিগুলো পরিদর্শনের কথাও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সফর শেষে আজ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দেশে ফিরছে।