স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িকে ধাক্কা, বাসচালক ও হেলপারকে আটক

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের গাড়িকে ধাক্কা দেয় একটি লোকাল বাস। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়ির ভিতরেই ছিলেন। গতকাল শুক্রবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ বাসটিকে জব্দ করে এবং বাসচালক ও হেলপারকে আটক করেছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর নড়েচড়ে বসে ট্রাফিক পুলিশ। শুরু করে ট্রাফিক সপ্তাহ। এর ষষ্ঠ দিনেই রাজধানীর সড়কে দেখা গেল বড় অনিয়ম। আগের মতোই বাসের চালকের আসনে আসিন হলেন হেলপার, যার নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। চালাচ্ছিলেন নিউ ভিশন পরিবহনের একটি বাস। আর এই বাসটি ধাক্কা দিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বহনকারী গাড়িতে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আটক হয়েছেন চালক ও হেলপার। বাসটি চালাচ্ছিলেন মানিক নামের এক হেলপার।

এঘটনার পর ওই বাস (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ব ১১-৭৪৭৫) ও হেলপারকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে ।

এসআই রুহুল আমিন বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় রোগী দেখতে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে এসেছিলেন। রোগী দেখে তিনি নাখালপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। মন্ত্রীর গাড়িটি হাসপাতালের সামনে কলেজ গেটের বিপরীতে গেলে পেছন দিক থেকে মন্ত্রীর গাড়িকে ধাক্কা দেয়। বাসটি মিরপুর থেকে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছিল।

ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) লিটন কুমার সাহা বলেন, থানায় নেয়ার পর বাসটিকে ডাম্পিংয়ে দেয়া হয়।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেরেবাংলানগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একজন রোগী দেখে বের হয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে নিউভিশন পরিবহনের একটি বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িকে ধাক্কা দেয়। পরে সঙ্গে সঙ্গে ওই বাস (নম্বর- ঢাকা মেট্রো ব ১১-৭৪৭৫) ও হেলপারকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করা হয়।

এসময় বাসের হেলপার ইব্রাহীম খলিল ইমন বাসটি চালাচ্ছিল। তার কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাকে এবং মূল চালক মানিক মিয়াকে আটকের পর মামলা দায়ের করে শেরেবাংলানগর থানা। ডাম্পিং’য়ে দেয়া হয় বাসটি।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জি জি বিশ্বাস বলেন, নিউভিশনের একটা গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসেই স্যারের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। স্যারের গাড়িকে ওভারটেক করার সময়ই এ ঘটনা ঘটে।

গাড়িটি বেশ ভালো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্যার এসময় গাড়িতেই ছিলেন, তিনি ভালো আছেন। যে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে স্যার আমি চালক না, আমি হেলপার। এসময় গাড়িটির আসল চালক পাশেই বসা ছিল।