সভাপতি না করায় মাদ্রাসার সুপারের উপর হামলা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইলিয়াছাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ কারি বড়নাল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. শফিকুল ইসলাম। মাদ্রাসা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালিয়া নড়াইল জনাব নাজমুল হুদা সাহেবকে বড়নাল দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়।

অধ্যক্ষ জানান, বিধি মোতাবেক কালিয়া উপজেলা ইউএনওকে সভাপতি করে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করে ২ আগস্ট তা অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মল্লিক মানিরুল ইসলাম হুমকি দিয়ে বলেন, তাকে ও আ’লীগ নেতা ওসমান সরদারকে না জানিয়ে কেন কমিটি দেয়া হল। তারা যেভাবে কমিটি দেবে সেটাই অনুমোদন করাতে হবে। তা না হলে এলাকায় আগুন জ্বলবে।

উত্তরে আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি বলেন, কমিটির কাজ সম্পন্ন করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। যা ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়ে অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে। আর যা করা হয়েছে আইনগতভাবে করা হয়েছে।

এতে মানিরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে ১৫-২০ জন যুবক নিয়ে মাদ্রাসায় এসে রেজুলেশন খাতা ওসমান সরদারকে দেখাতে বলেন। ওসমান সরদার ওই খাতা দেখার কথা বলে নিয়ে যান। রাত ৯টার দিকে মল্লিক মানিরুল ইসলাম সাবেক ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলাম ও সাইজুরসহ ৫-৬ জন যুবক নিয়ে মাদ্রাসা ভবনে প্রবেশ করে রেজুলেশন পরিবর্তন করে তাকে (মানিরুল) সভাপতি করতে চাপ দেন। এর মধ্যে ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী তার (অধ্যক্ষ) মুঠোফোনে কল দিয়ে রেজুলেশন খাতা নিয়ে সঙ্গে দেখা করতে বলেন। মুঠোফোনে কথা শেষ না হতেই মানিরুল ইসলাম তার (অধ্যক্ষ) গালে থাপ্পড় মারেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা সাইজুর ও খাইরুল কিলঘুষি মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান ও গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর জোরপূর্বক অধ্যক্ষকে গাড়িতে তুলে মাদ্রাসার শিক্ষক সৈয়দ হোসেন আলীর বাড়িতে নিয়ে আগের রেজুলেশন ছিঁড়ে ইউএনওকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়ে সেখানে মানিরুল ইসলামের নাম বসিয়ে দেয়। এ ঘটনা জানার পর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নড়াইল পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অধ্যক্ষকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেন। এরপর বুধবার দুপুরে কালিয়া থানায় মামলা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা মল্লিক মানিরুল ইসলামের মোবাইল নম্বারে বারবার কল দেয়া হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসার জন্মলগ্ন থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৮ সালে পুনরায় তাকে সভাপতি করায় সাবেক ই ঊ পি চেয়ারম্যান মল্লিক মনিরুল ইসলাম ও তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনি নিয়ে সুপারের উপরে চাপ সৃষ্টি করে এবং তাকে সভাপতি করার দাবি জানায়। সুপার সাহেব বলেন বিষয়টি আইনে নেই। তখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে সুপারের প্রাণ নাশের চেষ্টা করে ও মারধর করে। মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী আবু তালেব ও হাফেজি মাদ্রাসার হাফেজ সাহেব হুজুর জনাব আনয়ারুল ইসলাম জীবন বাজি রেখে সুপারকে রক্ষা করেন। সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন হাজির হোন।

এমনকি রাত সারে ৩ টায় নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার তার পুলিশ বাহিনিকে নিয়ে ঘটনা স্থলে হাজির হোন। এবং সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিজান চালিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন। কিন্তু ইতিপূর্বে পালিয়ে যাওয়ার কারনে গ্রেফতারে সক্ষম হয়নি। তিনি সুপারের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক ৩ জন পুলিশ সদস্য কে নিয়োগ করেন। সুপারকে অপমান করার প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারণ শিক্ষক মণ্ডলী ও ছাত্রছাত্রিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও আইনের অধিনে আনার জোর দাবি জানান।