সহপাঠীদের মৃত্যুর বিচারে ৯ দফা দাবি, স্তম্ভিত জনতা

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আবদুল্লাহপুর রুটের জাবালে নুর নামের একটি বাসের চাপায় রাজধানীর শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে নিহত হন। গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাই আজ সকাল থেকে উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের নিহত সহপাঠীদের মৃত্যুর বিচার দাবি করে।

রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উপর। চাকার নীচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এছাড়া আহত হন আরও ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী। নিহত যাওয়া দুইজন হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত দিয়া খানম মীমের বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম। তাদের বাড়ি মহাখালী দক্ষিণপাড়ায়। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিমের বাবার নাম মৃত নূর ইসলাম ও মা মহিমা বেগম। তাদের বাড়ি উত্তরা আশকোনা এলাকায়।

দুর্ঘটনার পর রাস্তা অবরোধ করে অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকটি বাসে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে ট্রাফিক ও ক্রাইম ডিভিশনের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। আজও সে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। তবে বিক্ষোভকে ভেঙ্গে দিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় জাবালে নূরের তিন গাড়ির দুই চালক ও দুই হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। রোববার রাত ও সোমবার সকালে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পেলে পরে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

এদিকে ওই ঘটনায় রোববার রাতেই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩৩।

তাছাড়া শিক্ষার্থীরা তাদের ৯ দফা দাবী তুলে ধরেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম আপন এসব দাবি তুলে ধরেন। ৯ দফা দাবিগুলো হলো- দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী বেপরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে; নৌ-পরিবহন মন্ত্রীকে নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাইতে হবে; শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্প্রিড ব্রেকার দিতে হবে; সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভর সরকারকে নিতে হবে; শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে- থামিয়ে তাদেরকে নিতে হবে; শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।