কমছে না বৃষ্টি, বাড়ছে নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের দাম

রাজধানীতে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপর। শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট, নয়াবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ ও তুরাগ এলাকার কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের একটি চিত্র পাওয়া যায়।

বৃষ্টির অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ডিম ও মুরগীসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। তবে রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচা বাজারে এই পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারওয়ানবাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা সোনাই আলী বলেন, সকালে পাইকারি পেঁয়াজের আড়তে পেঁয়াজের দাম বাড়তি ছিল। পাইকাররা বলছেন, দেশে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে রাজধানীতে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ আসছে না। ঘাটতি থাকায় পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছে। পাইকারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনে তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে সবজির দাম।

নানা ধরনের সবজি ৫-১০ টাকা বেশি দরে একাধিক বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গাজর ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। বরবটি ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি শসা ৬০-৬৫ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৬০-৬৫ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০-১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, আদা ১০০-১১০ টাকা ও রসুন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের লাউ প্রতিটি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শান্তিনগর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজির দাম একটু বাড়তি। টানা বৃষ্টি ও দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ কারণে সবজি সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে পাইকাররা। বাজারে পণ্য সরবরাহ কম থাকায় দাম একটু বেশি।

অপরদিকে কারণ ছাড়াই ডিমের দাম বাড়ছে। সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোয় গত সপ্তাহের ১০০ টাকা ডজনের ডিম ১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পুরান ঢাকার নয়াবাজারের ডিম বিক্রেতা মো. এখলাস বলেন, পাইকারি ডিমের বাজারে দাম বাড়তি। তাই বেশি দাম কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

চালের দামও বেড়েছে। তবে ডাল, ভোজ্যতেল, রসুন, মাছ-মাংস সহ বেশির ভাগ পণ্যের দাম ছিল স্থিতিশীল। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা ও খাসীর মাংস ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি পাকিস্তানি মুরগি আকারভেদে ১৫০-৩০০ টাকা, লেয়ার ২০০ টাকা ও গরুর মাংস ৪৭০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া কেজি প্রতি তেলাপিয়া ১৩০-১৪০ টাকা, কই ১৪৫-১৫৫ টাকা, সিলভার কার্প ১০০-১৩০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১১০-১৩০ টাকা, নলা ১২৫-১৩৫ টাকা ও সরপুঁটি ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর বাজারে ১ কেজি বা তারচেয়ে বেশী ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫’শ থেকে ১ হাজার ৮’শ টাকা পর্যন্ত। তবে ইলিশের মানভেদে দাম কমবেশী হয়ে থাকে। এছাড়া ৪’শ থেকে ৫’শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকার মধ্যে। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয় চাষের পাঙ্গাস, কৈ, তেলাপিয়ার দাম মোটামুটি স্বস্তা রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে চাষের পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, কৈ ১৫০ থেকে ২’শ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে আরও কয়েকদিন যদি এমন টানা বৃষ্টি থাকে তবে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।