আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একটি বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে চলেছে পৃথিবী। আকাশে দেখা যাবে একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ।মহাজাগতিক দুর্লভ এই দৃশ্য দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকেও। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ছায়াচ্ছন্ন থাকবে চাঁদ।

আবহাওয়া অধিদফতরের জলবায়ু মহাশাখা জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডে শুরু হওয়া চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এবং গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.৬১৪। ১০৪ বছর পর এই গ্রহণ হচ্ছে। এত দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে হয়তো আবার শত বছর অপেক্ষা করতে হবে।

‘আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশ থেকে গ্রহণটি পুরোপুরি দেখা যাবে। খালি চোখেই দেখা যাবে চন্দ্র গ্রহণের দৃশ্য। এতে চোখের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন একটানা ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ধরে চলবে এই গ্রহণ। উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়া গোটা পৃথিবী থেকেই দেখা যাবে এই বিরল চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। শুধু তাই নয়, ওইদিন চাঁদের রং হতে চলেছে টকটকে লাল।

বিজ্ঞানীরা আরও জানাচ্ছেন, এবারের চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে প্রায় ১০৫ মিনিট ধরে। এর আগে ২০১১ সালে ১৫ জুন ১০০ মিনিট ধরে চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। এই শতকের সেটাই ছিল বৃহত্তম চন্দ্রগ্রহণ।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সূর্যের সাদা আলো যখনই পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলের মধ্যে এসে পড়বে তখন পৃথিবীর নীল রঙের সঙ্গে মিশবে সূর্যের সাদা আলো। আলোক বিচ্ছুরণ হবে। সৃষ্টি হবে লাল আলোর। এই রঙেই রাঙা হবে চাঁদ।

চন্দ্রগ্রহণ জড়িয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। যেমন, গ্রহণের সময় ঘরের বাইরে বেরোতে নেই, খাবার থাকলে তা ফেলে দিতে হয়, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের খুবই সাবধানে থাকতে হয়। চন্দ্রগ্রহণ দেখার সময় কোনো বিধি কি মানবেন। জানাচ্ছে জ্যোতিষ ও বিজ্ঞান। আসুন জেনে নেই চন্দ্রগ্রহণ দেখার সময় কোনো বিধি কি মেনে চলবেন।

খাওয়া বা পান করা– প্রায়ই শুনে থাকবেন চন্দ্রগ্রহণের সময়ে কিছু খাওয়া বা পান করা কি উচিত? গ্রহণের সময়ে খাওয়া পা পান করায় বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যোগ নেই ধর্মের সঙ্গেও। শুধুই কুসংস্কারের বশে আজকের যুগেও অনেকে গ্রহণের সময়ে খাওয়াদাওয়া বা পানি পানও করেন না। এমনকি বাড়তি খাবার থাকলে তা ফেলেও দেন অনেকে।

অসুস্থ– চন্দ্রগ্রহণের সময় মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে এসেছিল। চন্দ্রগ্রহণের সময়ে প্রচুর মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা, করোনারি, ইউরিনারি, হেমারেজের সমস্যা নিয়ে। কিন্তু শারীরিক এই সমস্যাগুলো যে চন্দ্রগ্রহণের জন্যই হয়েছিল তা প্রমাণসাপেক্ষ।

পশুদের আচরণে পরিবর্তন– চন্দ্রগ্রহণের সময়ে নাকি অনেক পশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়! চন্দ্রগ্রহণের সময় পশুপাখিরা অযথা ডাকাডাকি করে, ডানা ঝাপটায়। এর কারণ, অসময়ে অন্ধকার হয়ে যাওয়া। ২০১০ সালেই এমন তথ্যই প্রকাশ করা হয় পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগ থেকে।

মানুষের মন– মানুষের মনে কি কোনও প্রভাব ফেলে চন্দ্রগ্রহণ? নাসা এমন তথ্য মানতে একেবারেই রাজি নয়। চন্দ্রগ্রহণের সময়ে কোনো ব্যক্তির মানসিক সমস্যা হলে তা একেবারেই তার মনের ব্যাপার। ছোটবেলা থেকে শুনে আসা ভয়গুলোই কাজ করে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেই জানাচ্ছে নাসা।

অন্তঃসত্ত্বা নারী– অনেকে প্রশ্ন করেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চন্দ্রগ্রহণ দেখলে তাদের গর্ভস্থ সন্তানের কি ক্ষতি হয়? একেবারেই তা হয় না। জ্যোতিষ মতে, এমন ধারণা একেবারেই ভুল। গ্রহণের সময়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তার বা সন্তানের কোনও ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই এর থেকে।

চন্দ্রগ্রহণ কি?

পৃথিবী যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পড়ে, তখন পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করে। এ সময় পৃথিবীর মানুষের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এ ঘটনাই চন্দ্রগ্রহণ।

প্রসঙ্গত,  গত শতাব্দীতে অবশ্য আরও বড় চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। ১৯৮২ সালে ১০৭ মিনিটের চন্দ্রগ্রহণ হয়।