শিল্পকলা একাডেমির পাঁচটি উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে পাঁচটি উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পাঁচটি উদ্যোগ হচ্ছে, বছরব্যাপী ‘শিল্পের শহর ঢাকা’ কর্মসূচি, চিত্রকলায় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবনচিত্র শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প, ‘বৃষ্টির পদাবলি’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান, মহাকবি কায়কোবাদকে স্মরণ এবং আগস্ট মাসে জাতীয় শোক দিবসের আয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে তখন উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক কাজী আসাদুজ্জামান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান, ‘শিল্পের শহর ঢাকা’র কিউরেটর মাহবুবুর রহমান এবং ‘শিল্পের শহর ঢাকা’য় অংশগ্রহণকারীরা।

‘শিল্পের শহর ঢাকা’

ঢাকার ৪০০ বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে নাগরিকদের নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রাজধানী জুড়ে আয়োজন করবে নতুন শিল্প-উদ্যোগ ‘শিল্পের শহর ঢাকা’। সাধারণ মানুষের সঙ্গে শিল্পের সংযোগ ঘটাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিন দিনের এ আয়োজন শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। লিয়াকত আলী লাকী জানান, এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের ১৮তম আসর উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তরুণ পারফরম্যান্স আর্ট শিল্পীদের নিয়ে নতুন এ উদ্যোগ নিয়েছে। পুরান ঢাকা, সংসদ ভবন, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন—এই স্থানগুলোকে শিল্পীদের পারফরম্যান্সের জন্য প্রাথমিক ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘শিল্পের শহর’ আয়োজনে ১৫ জন বাংলাদেশি শিল্পী পারফর্ম করবেন।

এ কর্মসূচির পরই বাউল পদযাত্রার আয়োজন করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাউলদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাউল দল’ গঠন করা হয়েছে। এখানে থেকে ১০০ জন বাউল এই পদযাত্রায় অংশ নেবেন। পরে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাউলগান পরিবেশন করবেন তাঁরা। সব এলাকায় স্থানীয় শিল্পীরাও এতে যোগ দেবেন। থাকবে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও।

‘শিল্পের শহর’ কর্মসূচিতে ১৫ দিন পরপর পর্যায়ক্রমে নাটক, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। আগামী শীতে এই কর্মসূচির আওতায় উন্মুক্ত স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ‘শিল্পের শহর’ কর্মসূচি একসময় ছড়িয়ে পড়বে দেশের সব কটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে। তিন মাস অন্তর প্রতিটি জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‘চিত্রকলায় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবনচিত্র’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বছরজুড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ সংগ্রহ করেছে। এবার সেসব সংগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘চিত্রকলায় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক জীবনচিত্র’ শীর্ষক কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২১ জুলাই সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ৫০ জন শিল্পী কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে বান্দরবান, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, নাটোর, মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অঞ্চলে যান। তাঁরা বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। স্থিরচিত্র ও স্কেচ তৈরি করে ঢাকায় ফিরেছেন। আগামী ২ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় তিন দিনের আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। শিল্পীদের সংগ্রহ করা বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার তথ্য-উপাত্ত, স্থিরচিত্র ও স্কেচের ওপর ভিত্তি করে আর্ট ক্যাম্পে ৫০ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর ছবি আঁকবেন। সেখান থেকে ১৫০টি চিত্রকর্ম নিয়ে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। প্রকাশ করা হবে ছবি ও তথ্যবহুল একটি ক্যাটালগ।

জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ওপর নেওয়া এ কর্মসূচি এবারই প্রথম। এখানে ৫০ জন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন চাকমা, মারমা, বম, হাজং, কোচ, গাড়ো, ত্রিপুরা ও মণিপুরি শিল্পী।

‘বৃষ্টির পদাবলি’

২৯ জুলাই সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘বর্ষার গান’ নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করছে ‘বৃষ্টির পদাবলি’ সংগীতানুষ্ঠান। এ আয়োজনে সহযোগী হিসেবে রয়েছে সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের শিল্পীরা অংশ নেবেন।

‘মহাকবি কায়কোবাদকে স্মরণ’

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ জুলাই সময়ের বিপরীতমুখী সৃজন স্রষ্টা মহাকবি কায়কোবাদকে স্মরণ করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

‘জাতীয় শোক দিবসের আয়োজন’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে নানা আয়োজন। এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে পক্ষকালব্যাপী চিত্রকলা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর গান, বাউলশিল্পীদের কণ্ঠে ‘বঙ্গবন্ধুর গান’, নাটক ‘মুজিব মানে মুক্তি’, নৃত্যনাট্য ‘যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান’, কবিতা পাঠের আসর ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রকলা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর গান ও বাউলশিল্পীদের গান।

এছাড়াও মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী অনুষ্ঠানে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর প্রস্তুতির কথাও বলেন। তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের ১৮তম আসরে ৬৭টি দেশের শিল্পী অংশ নেবে। এ আয়োজনের মূল আসরে বাংলাদেশের ১৫ জন শিল্পীর পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত ১২ জন শিল্পী তাঁদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করবেন।