জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

জ্বালানি সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এর উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৫২৫ মেগাওয়াট। রবিবার (২২ জুলাই) রাত ১০টা ২০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

এর আগে খনির উৎপাদিত কয়লার মজুদ ও বিক্রয়ের মধ্যে বড় ধরনের তারতম্য ধরা পড়ে। এর পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিকটন। যার মূল্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরির ঘটনায় পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. কামরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে সিস্টেম লসের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক এ বি এম কামরুজ্জামান রবিবার জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য আবু সাঈদ গত ১৮ জুলাই কয়লা খনি পরিদর্শনে এলে কয়লা মজুদের পরিমাণে গরমিলের খবর প্রথম প্রকাশ পায়।

এ ব্যাপারে খনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ খনিতে কয়লা উৎপাদন শুরু হয় ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ জুন থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ১২১০ নম্বর ফেইজের কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৬ জুন থেকে ১৩১৪ ফেইজের উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়।

কয়লা মজুদের তারতম্য প্রসঙ্গে প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন বলেন, ‘প্রথম থেকেই ইয়ার্ডের কয়লার প্রকৃত মজুদ ও রেজিস্ট্রারে তোলা কয়লা মজুদের হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করা হয়নি। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ কয়লার সিস্টেম লস এ হিসাবের আওতায় না নেওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’